৫ কোটির ঋণ এখন ৯ কোটির ফাঁস! রাজপাল যাদবের জীবনে কমেডি নয় বরং চরম ট্র্যাজেডি

হাসিয়ে যিনি কোটি মানুষের মন জয় করেছেন, সেই ‘কমেডি কিং’ রাজপাল যাদব এখন খাদের কিনারায়। পর্দায় যাকে দেখে হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যায়, বাস্তবে সেই মানুষটির চোখে এখন শুধুই দুশ্চিন্তার জল। ৫ কোটি টাকার ধার কীভাবে ৯ কোটির বিশাল পাহাড়ে পরিণত হলো এবং কেন তাকে তিহাড় জেলের ঘানি টানতে হলো, সেই বিস্ফোরক সত্যি এবার নিজেই ফাঁস করলেন অভিনেতা।
পর্দার হাসির আড়ালে ঋণের অন্ধকার
ঘটনার সূত্রপাত ২০১২ সালে। নিজের স্বপ্নের সিনেমা ‘আতা পাতা লাপাতা’ নির্মাণের জন্য দিল্লির এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন রাজপাল। কিন্তু বক্স অফিসে সিনেমাটি মুখ থুবড়ে পড়তেই শুরু হয় অভিনেতার দুর্দিন। সময়মতো টাকা ফেরত দিতে না পারায় সুদে-আসলে সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় ৯ কোটি টাকায়। এরপর একে একে ৭টি চেক বাউন্স হওয়ায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে চলতি বছরের শুরুতেই তাকে দিল্লির তিহাড় জেলে আত্মসমর্পণ করতে হয়েছিল।
লড়াই এখন টাকার নয় বরং ইগোর
হায়দ্রাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাজপাল যাদব স্পষ্ট জানান, এই মামলাটি এখন আর কেবল আর্থিক লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তার মতে, পুরো বিষয়টি এখন ‘ইগো ক্ল্যাশ’ বা অহংকারের লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমি বিশ্বাসের ভিত্তিতে এই ঋণ নিয়েছিলাম, কাউকে ঠকানোর কোনো উদ্দেশ্য আমার ছিল না। আমি আইনকে সম্মান করি এবং এই লড়াই চালিয়ে যাব।”
আইনজীবীর হস্তক্ষেপ ও ভবিষ্যতের আশা
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সময় অভিনেতা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লে তার আইনজীবী তাকে থামানোর চেষ্টা করেন, যা থেকে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে আইনি জটিলতা এখনো কতটা গভীর। তবে এই চরম সঙ্কটের মাঝেও রাজপাল ভেঙে পড়েননি। তিনি জানিয়েছেন, তার হাতে বেশ কিছু নতুন সিনেমার কাজ রয়েছে। রুপালি পর্দার এই জাদুকর আশা করছেন, খুব দ্রুত এই কালো মেঘ কেটে যাবে এবং তিনি আবারও দর্শকদের মন খুলে হাসাতে পারবেন।