‘আমি বাংলাদেশি নই’! কালো পোস্টারে তুঙ্গে রাজনৈতিক তর্জা

বীরভূম
পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় বিজেপির ‘পরিবর্তন রথযাত্রা’ শুরু হওয়ার আগেই রাজনীতির পারদ চড়ল সপ্তমে। একদিকে যখন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এবং মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী এই রথযাত্রার সূচনা করতে প্রস্তুত, ঠিক তখনই গোটা জেলাজুড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে পোস্টার যুদ্ধের জেরে ছড়িয়েছে তীব্র উত্তেজনা। জেলার আনাচে-কানাচে দেখা যাচ্ছে কালো রঙের রহস্যময় পোস্টার, যেখানে সপাটে লেখা— “বিজেপি, আমি স্পষ্ট বলছি আমি বাঙালি, আমি ভারতীয়, আমি বাংলাদেশি নই।”
রাজ্যে ভোটার তালিকা যাচাইকরণ বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে যখন সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি চরমে, ঠিক তখনই এই পোস্টার বিতর্ক নতুন মাত্রা যোগ করল। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে ইতিমধ্যে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে এবং প্রায় ৫০ লক্ষ নাম এখনও ‘বিবেচনাধীন’ পর্যায়ে রাখা হয়েছে। বীরভূমের রামপুরহাট, নলহাটি এবং তারাপীঠের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রাতারাতি এই পোস্টারগুলি সাঁটানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) মধ্যে শুরু হয়েছে তুমুল বাদানুবাদ।
বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি দীপক দাস সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, এই পোস্টার কাণ্ডের নেপথ্যে তৃণমূলের হাত রয়েছে এবং তারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছ, কিন্তু বিরোধীরা এতে বাধা সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে সোনালি বিবির ঘটনা নিয়ে এখনও প্রবল ক্ষোভ রয়েছে। উল্লেখ্য, সোনালি বিবিকে ভুলবশত বাংলাদেশি তকমা দিয়ে সীমান্ত পার করে দেওয়া হয়েছিল, যিনি পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে নিজের ভিটেয় ফিরে আসেন। রথযাত্রার ঠিক আগে এই ধরনের নাগরিকত্ব ও পরিচয় কেন্দ্রিক পোস্টার বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এই ইস্যুই হতে চলেছে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান অস্ত্র।