বাংলায় বিজেপি সরকার গড়লেই সরকারি চাকরিতে ৫ বছরের ছাড়, অমিত শাহের মেগা ঘোষণা

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে (রায়দিঘি) এক অভাবনীয় রাজনৈতিক চাল চাললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সোমবার পরিবর্তনের সংকল্প যাত্রা থেকে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ কর্মপ্রার্থী যুবকদের জন্য এক বিরাট প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি। শাহ স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাংলায় যদি বিজেপি ক্ষমতায় আসে, তবে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে নির্ধারিত বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় এককালীন ৫ বছরের বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে। নিয়োগ দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে যারা ওভার-এজ বা কর্মসংস্থানের সুযোগ হারিয়েছেন, তাদের জন্য এই ঘোষণা এক প্রকার ‘সঞ্জীবনী’ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে বাংলার যুবকদের স্বপ্নকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির কারণে যোগ্য প্রার্থীরা আজ রাস্তায় বসে চোখের জল ফেলছেন। আমরা ক্ষমতায় আসা মাত্রই একটি স্বচ্ছ এবং দ্রুত নিয়োগ ব্যবস্থা চালু করব।” শাহ আরও যোগ করেন যে, সিস্টেমের ব্যর্থতার কারণে যারা সরকারি চাকরির সুযোগ হারিয়েছেন, তাদের ৫ বছরের অতিরিক্ত সময় দিয়ে হৃত সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। যারা এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি জানান, এখন থেকে রাজ্যে চাকরি হবে শুধুমাত্র মেধার ভিত্তিতে।
মথুরাপুরের এই জনসভায় অমিত শাহের পাশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিয়োগ দুর্নীতি বর্তমানে বাংলার রাজনীতির সবথেকে স্পর্শকাতর বিষয়। অমিত শাহ সরাসরি সেই ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার কৌশল নিয়েছেন যাতে রাজ্যের বিশাল ‘যুব ভোট ব্যাংক’ নিজেদের দিকে টানা যায়। অনুপ্রবেশ এবং পরিবারতন্ত্র থেকে মুক্তি পেতে ২০২৬ সালে বাংলার মানুষ নিজেরাই পরিবর্তনের পথ বেছে নেবেন বলে আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান শাহ।