দোল পূর্ণিমার আগে মমতার বিরাট উপহার, ৩৫০০ কোটির কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে এখন নিমেষেই পৌঁছানো যাবে গন্তব্যে

পশ্চিমবঙ্গের মুকুটে যুক্ত হলো এক নতুন পালক। দোল ও হোলির উৎসবের আবহে রাজ্যবাসীকে এক অভাবনীয় উপহার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ৩৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অত্যাধুনিক কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করেন। এই নতুন পথ কেবল কলকাতা ও কল্যাণীর দূরত্ব কমাবে না, বরং উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া জেলার অর্থনৈতিক মানচিত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
যাতায়াতের সময় কমবে অর্ধেক
নতুন এই কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েটি আধুনিক ৪/৬ লেনের এবং সম্পূর্ণ সিগন্যাল-মুক্ত। দ্রুতগতিতে যান চলাচলের জন্য এই পথে তৈরি করা হয়েছে মোট ২১টি ফ্লাইওভার। নিমতায় বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে থেকে শুরু হয়ে এই রাস্তাটি গঙ্গার ওপর নির্মীয়মাণ ঈশ্বর গুপ্ত সেতু এবং ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের (বড় জাগুলি) সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। আগে এই পথ অতিক্রম করতে যেখানে ২ ঘণ্টার বেশি সময় লাগত, এখন সেই সফর মাত্র ১ ঘণ্টার মধ্যেই শেষ করা সম্ভব হবে। উদ্বোধনী ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে কেবল একটি রাস্তা নয়, এটি বাংলার আধুনিক পরিকাঠামো এবং উন্নয়নের নতুন মুখ।”
মানবিক মুখ্যমন্ত্রী এবং কর্মসংস্থানের বার্তা
এদিনের অনুষ্ঠানটি শুধুমাত্র এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধনেই সীমাবদ্ধ ছিল না, সেখানে ফুটে ওঠে মুখ্যমন্ত্রীর মানবিক রূপও। ভোটার তালিকা (SIR) সংক্রান্ত বিতর্ক ও উত্তেজনার জেরে প্রাণ হারানো ৩৬টি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। শোকসন্তপ্ত এই পরিবারগুলোর এক জন করে সদস্যের হাতে এদিন হোমগার্ড পদের নিয়োগপত্র তুলে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারি চাকরি পেয়ে পরিবারগুলো মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে তাঁর সরকার উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে সমান দায়বদ্ধ।
বসন্ত উৎসবের ঠিক আগে এই এক্সপ্রেসওয়ের যাত্রা শুরু বাংলার পরিবহন ব্যবস্থার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এখন থেকে ট্রাফিক জ্যামের ঝক্কি এড়িয়ে উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়ার মানুষ অনেক কম সময়ে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারবেন।