রঙের উৎসবে মাতোয়ারা বাংলা, কেন পালন করা হয় এই দোলযাত্রা? জানলে অবাক হবেন

রঙের উৎসবে মাতোয়ারা বাংলা, কেন পালন করা হয় এই দোলযাত্রা? জানলে অবাক হবেন

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে দোলযাত্রা বা হোলি অন্যতম বর্ণময় একটি উৎসব। চারদিকে আবিরের রঙে আকাশ-বাতাস রঙিন হয়ে উঠলেও এই উৎসবের নেপথ্যে থাকা পৌরাণিক কাহিনী ও ধর্মীয় গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর। অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে শুভ শক্তির জয়গান গাওয়াই হলো এই উৎসবের মূল ভিত্তি।

রাধাকৃষ্ণের প্রেম ও বৈষ্ণবীয় ঐতিহ্যে দোল

বাংলায় দোল উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বৈষ্ণব ধর্মতত্ত্ব। মনে করা হয়, এই দিনেই শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনে শ্রীরাধা ও অন্য গোপিনীদের সঙ্গে রং খেলায় মেতে উঠেছিলেন। সেই থেকেই রাধাকৃষ্ণের চিরায়ত প্রেমকে উদযাপন করতে দোল উৎসবের সূচনা। বিশেষ করে শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসব কিংবা মায়াপুরের দোল পূর্ণিমা আজও সেই আধ্যাত্মিক ধারাকে বহন করে চলেছে। এদিন সকালে মন্দিরে বা গৃহদেবতার চরণে আবির দিয়ে আশীর্বাদ গ্রহণ করার পরেই আবালবৃদ্ধবনিতা একে অপরকে রঙে রাঙিয়ে দেন।

অশুভ শক্তির বিনাশ ও ন্যাড়াপোড়ার তাৎপর্য

দোল উৎসবের ঠিক আগের দিন আয়োজিত হয় ‘হোলিকা দহন’ বা বাংলার চিরচেনা ‘ন্যাড়াপোড়া’। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, দত্যিরাজ হিরণ্যকশিপু তার ঈশ্বরভক্ত পুত্র প্রহ্লাদকে পুড়িয়ে মারার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। তার বোন হোলিকা, যার আগুনের শিখা থেকে বেঁচে থাকার বর ছিল, সে প্রহ্লাদকে কোলে নিয়ে আগুনে বসে। কিন্তু বিষ্ণুর কৃপায় ভক্ত প্রহ্লাদ অক্ষত থাকলেও হোলিকা পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এই ঘটনাটি প্রতীকীভাবে আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে অন্যায় বা অধর্মের বিনাশ অনিবার্য।

দোল মঞ্চ ও বাংলার ঐতিহ্যবাহী রীতি

বাংলার অনেক প্রাচীন বনেদি বাড়িতে বা পাড়ার মন্দিরে আজও ‘দোল মঞ্চ’ সাজানো হয়। সেখানে রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ স্থাপন করে পূজা-অর্চনা চলে। উত্তর ভারতের হোলির সঙ্গে বাংলার দোলের একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে—বাঙালিরা একে মূলত দোল পূর্ণিমা হিসেবে পালন করে, যা আধ্যাত্মিকতা এবং ঋতু পরিবর্তনের এক মেলবন্ধন। লাল, নীল, সবুজ আবিরের ছোঁয়ায় এদিন জাত-পাত নির্বিশেষে মানুষ মেতে ওঠে সম্প্রীতির উৎসবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *