বিজেপি কার্যালয়ে মহিলা কর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ, রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে

শান্তিপুর থানা এলাকায় পারিবারিক বিবাদ মীমাংসার নামে এক মহিলা কর্মীকে দলীয় কার্যালয়ে ডেকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল বিজেপির এক নেতার বিরুদ্ধে। নির্যাতিতা মহিলার দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পর সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদ মেটানোর কথা বলে তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে তাঁর ভাসুর ও নদীয়া দক্ষিণ জেলা বিজেপির এক পদাধিকারী নেতার উপস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটে। নির্যাতিতা ইতিমধ্যে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং দাবি করেছেন যে দলীয় অভ্যন্তরীণ লবিবাজির আক্রোশ থেকেই তাঁর ওপর এই নির্যাতন চালানো হয়েছে।
অভিযুক্ত বিজেপি নেতা অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার দিন তিনি রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকারের সঙ্গে অন্য একটি দলীয় কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলেন এবং তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। বিজেপির জেলা সভানেত্রী অপর্ণা নন্দীও এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, অভিযুক্ত নেতা একজন সজ্জন ব্যক্তি এবং সেদিন তিনি দলীয় কাজেই অন্যত্র উপস্থিত ছিলেন। দলের একাংশের মতে, এই ঘটনা শান্তিপুর বিজেপির অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের চরম বহিঃপ্রকাশ।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তর্জা শুরু হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ করে বলেছেন যে, বিজেপি নারী সুরক্ষার কথা বললেও তাদের দলেই মহিলারা নিরাপদ নন। তিনি এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং উভয় পক্ষের বয়ান খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলে এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।