এসএসকেএম-এর অসাধ্যসাধন, ৯ মাসে ৯৭ শিশুর নিস্তব্ধ শৈশবে ফুটল কথা

জন্মগত শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে নজিরবিহীন সাফল্য গড়ল এসএসকেএম (পিজি) হাসপাতালের ইএনটি বিভাগ। রাজ্য সরকারের বিশেষ প্রকল্পের অধীনে গত ৯ মাসে মোট ৯৭ জন শিশুর সফল ‘ককলিয়া ইমপ্ল্যান্ট’ সম্পন্ন করেছেন চিকিৎসকরা। বেসরকারি হাসপাতালে এই চিকিৎসার খরচ প্রায় ১৫ থেকে ১৭ লক্ষ টাকা হলেও, সরকারি উদ্যোগে এই ব্যয়বহুল অস্ত্রোপচার করা হয়েছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। ‘বিশ্ব শ্রবণ দিবস’ উপলক্ষ্যে সম্প্রতি দুই ও তিন বছর বয়সি দুই শিশুর সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেই এই মাইলফলক স্পর্শ করল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত শুনতে না পাওয়ার কারণেই শিশুরা কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলে, যা সঠিক সময়ে নির্ণয় করা জরুরি। ককলিয়া ইমপ্ল্যান্টের ক্ষেত্রে বয়স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; সাধারণত ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে এই অস্ত্রোপচার করা হলে তার কার্যকারিতা সবচেয়ে বেশি থাকে। ইএনটি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক ডা. অরুণাভ সেনগুপ্ত জানান, মা-বাবার জিনগত ত্রুটি বা জন্মের পর ভাইরাল ইনফেকশনের কারণে এই সমস্যা হতে পারে। তাই জন্মের পরেই ওএই (OAE) বা বেরা (BERA) পরীক্ষার মাধ্যমে শ্রবণ ক্ষমতা যাচাই করা প্রয়োজন।
তবে কেবল অস্ত্রোপচারই শেষ কথা নয়, এর পরবর্তী ধাপ হিসেবে দীর্ঘমেয়াদি রিহ্যাবিলিটেশন বা স্পিচ থেরাপি অত্যন্ত আবশ্যিক। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সমস্যার ৩০ শতাংশ সমাধান হলেও, বাকি ৭০ শতাংশ উন্নতি নির্ভর করে সঠিক প্রশিক্ষণের ওপর। সাধারণত অস্ত্রোপচারের ২০ দিন পর থেকে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত চলতে পারে। পিজির এই মহতী উদ্যোগের ফলে বহু মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার আর্থিক দুশ্চিন্তা কাটিয়ে তাদের সন্তানদের মুখে কথা ফোটাতে সক্ষম হচ্ছে।