‘ভুয়ো ভোটার’ ইস্যুতে তৃণমূল কি চাপে? মমতার ধর্না নিয়ে নতুন কৌশল শমীকদের

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন ও নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী ৬ তারিখ থেকে এই ইস্যুতে ধর্নায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তৃণমূলের অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তবে বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এই কর্মসূচিকে কটাক্ষ করে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, অনুপ্রবেশকারী ও ভুয়ো ভোটারদের নাম বাদ পড়াতেই শাসক দল অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে এবং অস্থিরতা তৈরি করছে।
বিজেপির দাবি, ভোটার তালিকায় প্রায় ৫৮ লক্ষ মৃত ও জাল ভোটারের হদিস মিলেছে, যা এতদিন তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহৃত হতো। শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান, বিচারব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনের ওপর অহেতুক চাপ সৃষ্টি করতেই এই ধর্নার কৌশল নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিজেপির জমা দেওয়া বহু আবেদন তৃণমূল ঘনিষ্ঠ সরকারি কর্মীরা নষ্ট করেছেন। তবে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে বলেই গেরুয়া শিবির আশাবাদী।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধনে যে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে দু-পক্ষই এখন সম্মুখ সমরে। যেখানে মুখ্যমন্ত্রী একে সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ বলছেন, সেখানে বিজেপি একে স্বচ্ছ নির্বাচনের পথে বড় জয় হিসেবে দেখছে। শমীকের মতে, ২০১১ সালের পর এবারই রাজ্যে সবথেকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট হতে চলেছে। শাসক দলের এই ‘বেপরোয়া’ মনোভাব আদতে তাদের জনভিত্তি হারানোরই প্রতিফলন বলে দাবি করেছে বিজেপি।