আমেরিকার ডুমসডে মিসাইল পরীক্ষায় ঘনীভূত পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা

ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে ‘মিনিটম্যান ৩’ ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষা করে বিশ্বজুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ১৩ হাজার কিলোমিটার পাল্লার এই মারণাস্ত্রটি হিরোশিমায় ব্যবহৃত বোমার চেয়ে ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম। ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যান্ডেনবার্গ স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণের পর এটি প্রশান্ত মহাসাগরের মার্শাল দ্বীপপুঞ্জে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। যদিও পেন্টাগনের দাবি, এই পরীক্ষার সাথে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই।
রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। ভারত মহাসাগরে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করার পর এবার আজারবাইজানের নাখচিভান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা হয়েছে। তেহরান এই হামলার দায় অস্বীকার করলেও আমেরিকা ও ইজরায়েলের লাগাতার আক্রমণে ইরানি জনপদ বিপর্যস্ত। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে প্রাণ হারিয়েছেন সহস্রাধিক মানুষ। পাল্টা জবাবে কুয়েত ও আমিরশাহিতে অবস্থিত মার্কিন সেনা ঘাঁটি এবং তেল ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের পরিধি বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে প্রাণহানি। তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমের স্কুল থেকে শুরু করে আজাদি স্টেডিয়াম পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতৃত্ব সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরাকের কুর্দিশ গোষ্ঠীগুলোর ওপর ড্রোন হামলা চালিয়ে নিজেদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করছে ইরান। সব মিলিয়ে এক চরম অনিশ্চয়তা ও পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে বিশ্ববাসী।