‘ইরানেও নতুন নেতা বাছাই করব আমি’! ‘সময়ের অপচয়’, স্থলপথে অভিযান নিয়ে পিছু হটলেন ট্রাম্প

ওয়াশিংটন: ২ মার্চ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, প্রয়োজনে ইরানে ঢুকবে মার্কিন সেনা। স্থলপথে অভিযানের সম্ভাবনা তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। যদিও এবার ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এখন তাঁর দাবি, মার্কিন ও ইজরায়েলি বাহিনীর কাছে ইরানে ‘গ্রাউন্ড ইনভেশন’ সময়ের অপচয়। তবে ইরাক থেকে কুর্দ বাহিনী সীমান্ত পেরিয়ে ইরানে হামলা চালালে তা দারুন ব্যাপার হবে। একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সদর্প ঘোষণা, ভেনেজুয়েলার মতো ইরানেও নতুন নেতা তিনিই নির্ধারণ করতে চলেছেন। একইসঙ্গে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেন’-এর ধাঁচে ‘মেক ইরান গ্রেট এগেন’ স্লোগানও দিয়েছেন ট্রাম্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বার্তা, ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে কোনও সমঝোতা নয়। এরপর গ্রহণযোগ্য নেতা বাছাই করে সহযোগীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমরা ইরানকে ধ্বংসের গ্রাস থেকে ফিরিয়ে আনব। মেক ইরান গ্রেট এগেন।’
এর আগে ট্রাম্পের হূমকির জবাবে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেন, মার্কিন ও ইজরায়েলি সেনার স্থলপথে অভিযানের মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত। ওদের বড়োসড়ো বিপর্যয় নিশ্চিত। যদিও ট্রাম্পের পালটা দাবি, এসব মন্তব্য মূল্যহীন। স্থলপথে অভিযানের কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই। ওরা সর্বস্ব হারিয়েছে। ওদের নৌবাহিনী শেষ। হারানোর মতো আর কিছুই বাকি নেই ইরানের। যে গতি ও তীব্রতায় অভিযান চলছে, তা বজায় থাকবে।
ইরানের নতুন নেতা প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘খামেনেইয়ের পুত্র (মোজতাবা খামেনেই) আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এমন একজনকে চাই যিনি ইরানে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করবেন।’ পরে আবার অন্য একটি সংবাদ মাধ্যমে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের পুরো কাঠামোটাই সরিয়ে দিতে চাই। পুনর্গঠনের জন্য ১০ বছর সময় নিয়ে নেবেন, এমন কোনও নেতা চলবে না। একজন ভালো নেতা বেছে নেওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি নাম আমার মাথায় রয়েছে। সেই তালিকায় যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা যাতে জীবিত থাকেন সেজন্য পদক্ষেপ করা হচ্ছে। আমরা তাঁদের নজরে রাখছি।’ কিন্তু কে তিনি? মার্কিন প্রেসিডেন্টের জবাব, ‘সেটা বলতে পারব না। সময় এলে ওরাই নতুন নেতা বাছাইয়ের জন্য আমাকে ডাকবে।’