৬০ লক্ষের ভবিষ্যৎ কী, জানেন না স্বয়ং সিইও!

কলকাতা: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে ৬৪ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার পর এখন রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু আরও ৬০ লক্ষ ‘বিচারাধীন’ ভোটারের ভবিষ্যৎ! অথচ, এই প্রশ্নে আশ্চর্যজনকভাবে নিরুত্তাপ খোদ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল। বলা যায়, এ ব্যাপারে কার্যত তিনি কিছু জানেনই না! শুক্রবার এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে এই বিরল সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। ৬০ লক্ষের মধ্যে সাড়ে সাত লাখের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। বাকিদের কী হবে, সেসব আমি জানি না। কমিশন এসে সিদ্ধান্ত নেবে।’ তবে একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ‘নির্দিষ্ট সময়েই ভোট হবে। সেজন্য ভারতের নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ আসছে। আগামী ৯ ও ১০ তারিখ তারা এখানে থাকবে। চারটে রাজ্য ঘুরে তারা এ রাজ্যে আসছে।’ তাহলে কি এই লক্ষ লক্ষ ভোটারকে বাদ রেখেই ভোট করাতে চলেছে কমিশন? মনোজের বক্তব্যে উসকে উঠেছে এই প্রশ্ন।
এদিন রাজ্যসভার নির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল করার পর স্ক্রুটিনি পর্ব খতিয়ে দেখতে ভোটের পর্যবেক্ষক হিসাবে বিধানসভায় গিয়েছিলেন মনোজ। সেখানে অ্যাডজুডিকেশন তালিকা ছাড়াও ইচ্ছাকৃতভাবে নাম বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে তিনি আরও বলেন, ‘নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পেলে আমরা নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেব। কিন্তু আমরা এখন এত ব্যস্ত, এই কাজ করব? নাকি ভোটের? এখন এত সময় নেই যে ধরে ধরে শাস্তি দেব। এইভাবে আমি কিছু বলতে পারব না। ডিইওদের কাছে রিপোর্ট চেয়েছি। তথ্যপ্রমাণ অনুসন্ধান করে তবে পারব। আমরা আইনি পথে ব্যবস্থা নেব।’
অন্যদিকে, তৃণমূলের চার ও বিজেপির একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের স্ক্রুটিনি এদিন সম্পন্ন হয়েছে। সেই বিষয়টিও পর্যবেক্ষক হিসাবে খতিয়ে দেখেছেন সিইও। বিজেপি প্রার্থী রাহুল সিনহার মনোনয়নে কিছু ত্রুটি ছিল বলে বিধানসভার সচিবালয় সূত্রে খবর। বিশেষ করে তাঁর জমা দেওয়া হলফনামায় বেশ কিছু ভুলভ্রান্তি ধরা পড়েছিল। তবে দিনের শেষে রাজীব কুমার, বাবুল সুপ্রিয় এবং মেনকা গুরুস্বামীর সঙ্গে কোয়েল এবং রাহুলেরও মনোনয়ন গ্রহণ করেছেন নির্বাচনি রিটার্নিং অফিসার। অতিরিক্ত কোনো মনোনয়ন জমা না পড়ায়, পশ্চিমবঙ্গে যে রাজ্যসভার নির্বাচন হবে না, তা স্পষ্ট। আগামী সোমবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়ে গেলেই বিকেলে পাঁচজন প্রার্থীকে জয়ের শংসাপত্র দিয়ে দেওয়া হবে।