ইরানের পর কিউবা, নয়া যুদ্ধের হুমকি ট্রাম্পের

ইরানের পর কিউবা, নয়া যুদ্ধের হুমকি ট্রাম্পের

ওয়াশিংটন: মধ্যরাতের হামলায় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক ‘অপহরণ’। মাস দুয়েকের মধ্যে এপস্টাইন ফাইলের বিস্ফোরণ, আর তারপরই আমেরিকা-ইজরায়েল যৌথ হানায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। গোটা বিশ্বের জ্বালানি-অর্থনীতিতে ধস নামিয়ে সেই যুদ্ধ এখনও চলছে। অথচ, তার মধ্যেই নতুন হুংকার দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তাঁর নিশানায় কমিউনিস্ট রাষ্ট্র কিউবা। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের একটি অনুষ্ঠানে লাতিন আমেরিকার ওই দেশটিকে শূলে চড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বললেন, ‘আমরা প্রথমে এটা (ইরান যুদ্ধ) শেষ করতে চাই। তারপর শুধুই সময়ের অপেক্ষা। দ্রুত আপনারা কিউবা ফিরে যেতে পারবেন।’ 


ফিদেল কাস্ত্রোর দেশের সঙ্গে আমেরিকার শত্রুতা নতুন নয়। মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করেই টিকে আছে কিউবা। অন্যতম ভরসা ছিল ভেনেজুয়েলা থেকে আমদানি হওয়া খনিজ তেল। তবে নিকোলাস মাদুরোর পতনের পর কিউবায় তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে আমেরিকা। ফলে চরম আর্থিক সংকট নেমে এসেছে দেশটিতে। জ্বালানির অভাবে বিপর্যস্ত কিউবার বিমান পরিষেবাও।  


মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় কিউবার দশা বেহাল হওয়ায় দৃশ্যতই খুশি ট্রাম্প। বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিয়োর জন্ম মায়ামির এক কিউবান শরণার্থী পরিবারে। হঠাৎই তাঁর প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, ‘কিউবায় আপনারা ভীষণ ভালো কাজ করছেন।’ মার্কোর চাপে পড়ে আমেরিকার সঙ্গে চুক্তিতে সম্মত হয়েছে কিউবা, এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন ট্রাম্প। বলেছেন, ‘কিউবা ভীষণভাবেই চুক্তি করতে আগ্রহী।’  


মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরবর্তী লক্ষ্য যে কিউবা, সেই ইঙ্গিত আগেও মিলেছিল। গত রবিবার একটি সাক্ষাৎকারে মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছিলেন, ‘পরবর্তী লক্ষ্য কিউবা।’ বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট একই ইঙ্গিত দেন। বলেন, ‘আমরা ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সহ যাবতীয় রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছি। ওরা এখন চুক্তি করতে চায়। আমরা কিউবার সঙ্গে আলোচনা করছি। আর কতদিন আপনারা কিউবা-কিউবা-কিউবা শুনবেন? ৫০ বছর? ওটা আমার জন্য ছোট্ট বিষয়।’ 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *