মমতার ১৫ বছরে স্বাস্থ্যে নিয়োগ ১ লাখ!

কলকাতা: লোকবল, পরিকাঠামো এবং গুরুত্বের বিচারের রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তর হল স্বাস্থ্য। বিজেপি বা সিপিএম বা অন্যান্য নিন্দুকরা যাই বলুন না কেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় গত ১৫ বছরে ঢালাও নিয়োগ হয়েছে স্বাস্থ্যে। শুধুমাত্র স্থায়ী পদেই নিযুক্ত হয়েছেন চিকিৎসক, শিক্ষক চিকিৎসক, বিভিন্ন ক্যাটিগরির নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্টসহ একডজনেরও বেশি ধরনের কর্মী। শেষ ১২ বছরে স্থায়ী পদে চাকরি পেয়েছেন ৬২ হাজারের বেশি চিকিৎসক-কর্মী। অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক পদেও নিয়োগ নেহাত কম হয়নি। সদ্য সদ্য হওয়া ১০ হাজার নিয়োগ ধরলে প্রায় ৩৫ হাজার কর্মী ও চিকিৎসক নিযুক্ত হয়েছেন গত ১৫ বছরে। সব মিলিয়ে ২০১১ থেকে ২০২৬—ক্ষমতার ১৫ বছরে মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দপ্তর নিয়োগ করেছে লক্ষাধিক কর্মী। ‘চাকরি নেই’, ‘নিয়োগ বন্ধ’, ‘বাংলায় শুধু চপ তেলেভাজার দোকনে লোক নেওয়া হয়’—বিরোধীদের এমন লাগাতার প্রচার সত্ত্বেও এই বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগ হয়েছে সুবিশাল স্বাস্থ্যদপ্তরে। এর মধ্যে স্থায়ী পদে প্রায় ৬৫ হাজার এবং জাতীয় গ্রামীণ স্বাস্থ্য মিশন (এনআরএইচএইচ), জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনে (এনএইচএম) আরও ৩৬ হাজার কর্মী। প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালে জাতীয় গ্রামীণ স্বাস্থ্য মিশন প্রকল্প শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকার। তখন থেকে অল্পস্বল্প কর্মী নিয়োগ শুরু হয়। ২০১৩ সালে এই প্রকল্পের নাম বদলে হয় জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন বা এনএইচএম। ব্যাপকভাবে চিকিৎসক ও কর্মী নিয়োগ শুরু হয়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ৪২ ধরনের কর্মী নিয়োগ করা হয় এই প্রকল্পের অধীনে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ২০১২ সালের আগস্ট মাসে স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্মী নিয়োগ সংস্থা ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড (ডব্লুউবিএইচআরবি) তৈরি হয়। যদিও এই বোর্ড পুরোদমে কাজ করা শুরু করে ২০১৪ সাল থেকে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মমতা জমানার ১৫ বছরে এই বোর্ড সবসুদ্ধ যে ৬২ হাজার চিকিৎসক-কর্মী নিয়োগ করেছে, তার প্রায় তিনভাগের একভাগ নিযুক্ত হয়েছেন শেষ চারবছরে। মানে ২০২২-২০২৬—এই সময়কালে। আর শেষ ৫ বছরে (২০২১-২৬) বোর্ডের মাধ্যমে চাকরি পেয়েছেন ২১ হাজার ৬২২ জন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক হলেন বিভিন্ন পদের নার্সিং কর্মী। সংখ্যায় ১৪ হাজারেরও বেশি! বাকি পদগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিযুক্ত হয়েছেন বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসকরা (জিডিএমওল স্পেশালিস্ট প্রমুখ)। সেই সংখ্যা সাড়ে তিন হাজারের বেশি।