পুলিশি নথিই হাতিয়ার: সাত বছর পর ভারতীয় নাগরিকত্ব পেলেন আসামের দীপালী দাস

দীর্ঘ সাত বছরের আইনি লড়াই ও ডিটেনশন ক্যাম্পের যন্ত্রণা পেরিয়ে অবশেষে ভারতীয় নাগরিকত্ব পেলেন আসামের কাছাড় জেলার ৬০ বছর বয়সি বাসিন্দা দীপালী দাস। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (CAA) অধীনে আবেদন জানিয়ে শুক্রবার তিনি এই স্বীকৃতি লাভ করেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া হাতেগোনা ব্যক্তিদের মধ্যে তিনি অন্যতম।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৯ সালে, যখন আসাম পুলিশের এক রিপোর্টের ভিত্তিতে ফরেনার্স ট্রাইবুনাল তাঁকে ‘বিদেশি’ ঘোষণা করে শিলচর সেন্ট্রাল জেলে পাঠায়। দুই বছর বন্দি থাকার পর ২০২১ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে মুক্তি পেলেও প্রতি সপ্তাহে থানায় হাজিরা দেওয়ার গ্লানি ও মানসিক অনিশ্চয়তা তাঁর নিত্যসঙ্গী ছিল।
মজার বিষয় হলো, যে পুলিশি রিপোর্টে তাঁকে ১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশ থেকে আগত অনুপ্রবেশকারী বলা হয়েছিল, সেই নথিটিকেই তাঁর আইনজীবী নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেন। ওই রিপোর্টে উল্লিখিত বাংলাদেশের ঠিকানাই প্রমাণ করে যে তিনি ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ১৯৮৮ সালে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। এই সরকারি নথির ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত দীপালী দাসের দীর্ঘ সংগ্রামের অবসান ঘটল।