বাংলা ভাগ! কেন্দ্রের সরকারই ফেলে দেব, ধরনা মঞ্চ থেকে হুংকার মমতার

কলকাতা: এসআইআরে বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ধর্মতলায় ধরনা দিচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে তৃণমূলের এই কর্মসূচি। বিভিন্ন ইস্যুতে ধরনা মঞ্চ থেকে একের পর এক তোপ দাগছেন মমতা। নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রের শাসকদলকে একযোগে আক্রমণ শানাচ্ছেন। শনিবার, ধরনার দ্বিতীয় দিনের শুরু থেকে আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়ে দেন তিনি। মঞ্চ থেকে তাঁর হুংকার, ‘এরা (পড়ুন বিজেপি) নাকি বাংলা-বিহার ভাগ করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করবে! আরে, বাংলায় একবার হাত দিয়ে দেখো! ওদের ধান্দা হল, আবার একটা বঙ্গভঙ্গ করা। যত আঘাত করবেন, তত প্রত্যাঘাত সহ্য করতে হবে। বাংলা লড়াই করছে, করতে জানে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে কেন্দ্রে তোমার সরকারই ফেলে দেব।’
এর পাশাপাশি রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের আচমকা পদত্যাগ নিয়ে সরব হয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘রাজভবনকে বিজেপির পার্টি অফিসে পরিণত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কেন রাজ্যপাল আনন্দ বোসকে সরানো হল, আমি সব জানি।’ নবনিযুক্ত রাজ্যপাল আর এন রবির বিরুদ্ধেও সুর চড়িয়েছেন তিনি। তাঁকে ‘ছিপছিপে বাবু’ বলে কটাক্ষ করে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘আমি শুনেছি, তিনি যখন তামিলনড়ুতে ছিলেন, তাঁকে সুপ্রিম কোর্টের অনেক মন্তব্য শুনতে হয়েছে। তিনি বিজেপি ছাড়া কিছু কাজ করেন না।’ সূত্রের খবর, নতুন রাজ্যপাল ১১ মার্চ কলকাতায় আসবেন। ১২ তারিখ দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন তিনি।
এদিন ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বেশ কয়েকজন ভোটারকে ধরনা মঞ্চে তুলে আনেন মমতা। সবার হাতে ছিল যাঁর যাঁর আধার, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড ইত্যাদি নথি। তাঁদের সামনে রেখে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘কেন এঁদের নাম বাতিল করা হল? বিজেপিকে খুশি করার জন্য?’ কারও নাম না করে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, ‘এত মানুষের মৃত্যু হল। আপনাদের হৃদয় কাঁপে না? যাঁদের নাম কাটা গেল, তাঁরা হয়তো ভাবছেন যে এদেশে থাকতে পারবেন কি না। আমি বলছি, আমি আপনাদের পাশে থাকব।’ এসআইআর নিয়ে নিজের লেখা বেশ কিছু কবিতাও পাঠ করে শোনান তিনি।
তবে শুধু দলনেত্রী নন, এদিন ধরনা মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখেন তৃণমূলের যুব ব্রিগেডের যোদ্ধারা। সম্প্রতি দলে যোগ দেওয়া প্রতীক উর রহমান থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবাংশু ভট্টাচার্য, সুদীপ রাহা, জুন মালিয়া ছিলেন বক্তা তালিকায়। বক্তব্য রাখেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ। কল্যাণবাবু মঞ্চ থেকেই মমতাকে অনুরোধ করেন, ‘গদ্দারদের আর দলে নেবেন না।’ একযোগে বিজেপি ও সিপিএমকে আক্রমণ করেন দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।
প্রসঙ্গত, কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে মমতা যখন বাংলা ভাগের বিরুদ্ধে হুংকার দিচ্ছেন, তার কিছুক্ষণের মধ্যে দিল্লি জানিয়ে দেয় যে এ সংক্রান্ত খবরটি সম্পূর্ণ ভুয়ো। তাতেও অবশ্য দমানো যায়নি মমতাকে। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘সকালে বলেছিলাম বলে বিকেলে ওরা না বলছে!’ সেই সঙ্গে জানিয়ে দেন, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চলবে জোরদার। শনিবারও তিনি ধরনা মঞ্চে রাত কাটাবেন।