রাশিয়ার থেকে তেল কিনতে ভারতের কি আমেরিকার ‘পারমিশন’ লাগবে? যা জানা যাচ্ছে

রাশিয়ার থেকে তেল কিনতে ভারতের কি আমেরিকার ‘পারমিশন’ লাগবে? যা জানা যাচ্ছে

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হতেই তেল নিয়ে বিশ্বজুড়ে অশান্তি দেখা দিয়েছিল। এরইমধ্যেই ভারতকে রাশিয়া তেল দিতে সম্মত হওয়ায়, বিতর্ক তৈরি করেছিল আমেরিকার বক্তব্য। রাশিয়ার তেল সম্পর্কে আমেরিকার বিবৃতি ভারতে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কিন্তু এরইমধ্যে জানা যাচ্ছে আসল তথ্য। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাশিয়ান তেল কিনতে ভারতের কোনও দেশের অনুমতির প্রয়োজন নেই।

সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, ভারত কখনই রাশিয়ান তেল কেনার জন্য কোনও দেশের অনুমতির উপর নির্ভরশীল ছিল না, আজও নেই। যেখানেই পাওয়া যাবে সেখান থেকে অপরিশোধিত তেল কিনবে। 

ওই আধিকারিক দাবি করেছেন, আমেরিকা ও UAE-র আপত্তি সত্ত্বেও, ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ভারতে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল সরবরাহ অব্যাহত ছিল। তিনি আরও বলেন, “প্রকৃতপক্ষে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং UAE-র চাপ সত্ত্বেও ভারত এই সময়ে আদতে রাশিয়ার থেকে তেল ক্রয় বাড়িয়েছে।”

উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল সংকটের আশঙ্কা দেখা গিয়েছিল। এমন ক্ষেত্রে পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল করতে সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ান তেল কিনতে ভারতকে ৩০ দিনের অস্থায়ী ছাড় দেওয়ার ঘোষণা করে আমেরিকা। তারই প্রেক্ষিতে জন্ম নেয় বিতর্ক। প্রশ্ন ওঠে, ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কিনবে, তাতে আমেরিকার অনুমতির প্রয়োজন কোথায়? তবে কী মার্কিন অনুমতি ছাড়া নয়াদিল্লি আজকাল কিছুই করতে পারছে না? এরপরই সরকারি আধিকারিকের তরফে এই বার্তা এল।

অন্যদিকে, কেন্দ্র জানিয়েছেছে, ভারতে বর্তমানে ২৫০ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল এবং পরিশোধিত পণ্যের মজুত রয়েছে, যা সাত থেকে আট সপ্তাহের জন্য যথেষ্ট। তথ্য অনুসারে, ভারত প্রায় ৪০টি দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। সেক্ষেত্রে কোনও দেশের উপর নয়াদিল্লি একক ভাবে নির্ভরশীল নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *