রাশিয়ার তেল কিনতে কি আমেরিকার অনুমতি লাগবে? ভারতের সামনে কি নতুন চাপ!

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় রাশিয়ার থেকে জ্বালানি তেল কেনা নিয়ে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেল সংকটের আবহে ওয়াশিংটন ভারতকে রুশ তেল আমদানিতে ৩০ দিনের সাময়িক ছাড় দেওয়ার ঘোষণা করেছিল। আমেরিকার এই বিবৃতি ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয় এবং প্রশ্ন ওঠে যে, ভারতের নিজস্ব বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তে বিদেশি হস্তক্ষেপ কতটুকু গ্রহণযোগ্য।
তবে সরকারি উচ্চপদস্থ সূত্রের খবর অনুযায়ী, রুশ তেল আমদানির ক্ষেত্রে ভারত কোনও নির্দিষ্ট দেশের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল নয়। ইউক্রেন যুদ্ধের সময় মার্কিন ও ইউএই-র চাপ সত্ত্বেও নয়াদিল্লি রাশিয়ার থেকে তেল ক্রয় বাড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারত তার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো দেশ থেকেই অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ অব্যাহত রাখবে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ভারত সর্বদা স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে দায়বদ্ধ।
বর্তমানে ভারতের কাছে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত পণ্যের মজুত রয়েছে, যা আগামী সাত থেকে আট সপ্তাহের জন্য পর্যাপ্ত। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারত বর্তমানে প্রায় ৪০টি দেশ থেকে তেল আমদানি করে থাকে, যার ফলে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে একক কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীলতার ঝুঁকি নেই। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে কেন্দ্র সবরকম বিকল্প ব্যবস্থা সচল রেখেছে বলে জানানো হয়েছে।