রাজ্যে জনজাতি উন্নয়ন নিয়ে রাষ্ট্রপতির তোপ, পালটা খতিয়ান দিল তৃণমূল

উত্তরবঙ্গ সফরে এসে রাজ্যের জনজাতিদের উন্নয়ন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। শিলিগুড়িতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে আদিবাসী সমাজ পিছিয়ে রয়েছে এবং তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত কাজ হয়নি। অনুষ্ঠানের অব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতির এই সফরকে কেন্দ্র করে ইতিমদ্যেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্যের পালটা জবাবে রাজ্য সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেস উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেছে। জনজাতিদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তার লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পের তালিকা প্রকাশ করে জানানো হয়, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে উপজাতি মহিলাদের মাসিক ভাতা বৃদ্ধি করে ১,৭০০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ‘জয় জোহার’ পেনশন স্কিম, ‘শিক্ষাশ্রী’ বৃত্তি এবং সাঁওতালি ভাষায় পঠনপাঠনের জন্য ‘সিধু-কানু মেমোরিয়াল আবাসিক স্কুল’ তৈরির উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেছে শাসক দল।
তৃণমূলের দাবি, আদিবাসী এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়ন, পানীয় জল ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে শক্তিশালী করতে কয়েকশো কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অভিযোগকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দিয়ে তারা জানায়, সঠিক তথ্যের অভাবেই এমন ধারণা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি এই পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করে রাজ্যে প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে। তবে রাজ্য প্রশাসনের দাবি, জনজাতিদের সার্বিক উন্নয়নে সরকার নিরন্তর কাজ করে চলেছে এবং তাঁদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।