‘সোনার হাঁটু’ প্রতিস্থাপনে নবজীবন, যন্ত্রণাকে জয় করে কর্মক্ষেত্রে ফিরলেন নার্স

‘সোনার হাঁটু’ প্রতিস্থাপনে নবজীবন, যন্ত্রণাকে জয় করে কর্মক্ষেত্রে ফিরলেন নার্স

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রাক্কালে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক অনন্য সাফল্যের নজির গড়লেন ৫৫ বছর বয়সি এক নার্স। হাঁটুর তীব্র যন্ত্রণায় যখন তাঁর পেশাগত জীবন প্রায় থমকে গিয়েছিল, তখন আধুনিক ‘গোল্ড নি ইমপ্লান্ট’ প্রযুক্তির সহায়তায় তিনি পুনরায় স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরেছেন। নার্সিংয়ের মতো কঠিন পরিশ্রমসাধ্য পেশায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করার চ্যালেঞ্জ জয় করে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন বর্তমান প্রজন্মের নারীদের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞ অর্থোপেডিক সার্জন ডা. অর্ণব কর্মকারের মতে, এই ‘সোনার হাঁটু’ আসলে সাধারণ ইমপ্লান্টে টাইটেনিয়াম নিয়োবিয়াম নাইট্রাইড কোটিংয়ের একটি উন্নত সংস্করণ। সাধারণ কোবাল্ট-ক্রোমিয়াম ইমপ্লান্টের তুলনায় এটি অধিক টেকসই এবং মানবশরীরে ধাতব অ্যালার্জির ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে দেয়। যেখানে সাধারণ কৃত্রিম হাঁটু ১৫-২০ বছর কার্যকর থাকে, সেখানে এই বিশেষ কোটিংযুক্ত ইমপ্লান্ট দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করে।

বর্তমানে কম বয়সে হাড়ের ক্ষয় বা দুর্ঘটনার কারণে হাঁটু প্রতিস্থাপনের চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে মহিলারা হরমোনজনিত কারণে এই সমস্যায় বেশি ভোগেন। আধুনিক এই প্রযুক্তি ব্যয়বহুল হলেও দীর্ঘমেয়াদী সক্রিয়তা ও উন্নত জীবনযাত্রার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই অগ্রগতি প্রমাণ করেছে যে, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বা বয়সের ভার এখন আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির পথে বাধা হতে পারে না। সুস্থ হাঁটু নিয়ে নারীরা এগিয়ে চলুক আগামীর পথে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *