রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানানো নিয়ে নজিরবিহীন প্রোটোকল বিতর্ক, নবান্নের কাছে ব্যাখ্যা চাইল কেন্দ্র

শিলিগুড়ির গোঁসাইপুরে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে সংঘাত তীব্রতর হয়েছে। রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে রাজ্য সরকারের শীর্ষ স্তরের কোনো প্রতিনিধি না থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছে লিখিত ব্যাখ্যা তলব করেছেন। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করায় বিষয়টি এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে।
প্রথা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি কোনো রাজ্য সফরে গেলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যের তাঁকে স্বাগত জানানো বাঞ্ছনীয়। তবে শিলিগুড়িতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা কোনো মন্ত্রীকে দেখা যায়নি; উপস্থিত ছিলেন না মুখ্যসচিব বা ডিজিপি-ও। রাজ্যের পক্ষ থেকে শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব, জেলাশাসক এবং পুলিশ কমিশনার রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান। পদাধিকার বলে মেয়রের উপস্থিতি এই উচ্চপর্যায়ের প্রোটোকল রক্ষার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত কি না, তা নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। বিজেপি এবং বাম নেতৃত্ব একে রাষ্ট্রপতির পদের প্রতি আসাম্মান হিসেবে দেখছেন। প্রাক্তন মেয়র অশোক ভট্টাচার্যের মতে, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও সাংবিধানিক পদের সৌজন্য বজায় রাখা উচিত ছিল। অন্যদিকে, কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির মতো সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদাধিকারীর আগমনে প্রোটোকল অনুযায়ী অন্তত একজন মন্ত্রীর উপস্থিতি বাঞ্ছনীয়। এই ঘটনায় রাজ্যের অবস্থান নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।