বয়স কি মাতৃত্বের বাধা? বিজ্ঞানের আশীর্বাদে সত্তরেও সম্ভব সন্তানলাভ

বয়স কি মাতৃত্বের বাধা? বিজ্ঞানের আশীর্বাদে সত্তরেও সম্ভব সন্তানলাভ

দেরি করে মাতৃত্বের স্বাদ পেতে চাওয়া নারীদের জন্য আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সম্প্রতি ৬৬ বছর বয়সি অভিনেত্রী নীনা গুপ্তার একটি ভিডিও ঘিরে সমাজমাধ্যমে জল্পনা শুরু হলেও, তিনি তা নাকচ করে দিয়েছেন। তবে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে আইভিএফ (IVF) প্রযুক্তির সহায়তায় ৫০ থেকে ৭০ বছর বয়সেও সুস্থ সন্তানের জন্ম দিয়ে অনেক নারী বিশ্বজুড়ে চমক সৃষ্টি করেছেন। ২০২২ সালে পশ্চিমবঙ্গের এক প্রৌঢ়া ৫৪ বছর বয়সে যমজ সন্তানের জন্ম দেন, আবার পাঞ্জাবের দলজিন্দর কৌর ৭২ বছর বয়সে মা হয়ে নজির গড়েছেন।

চিকিৎসকদের মতে, ৩৫ বছরের পর স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতা কমতে থাকলেও ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বা আইভিএফ পদ্ধতিতে গর্ভধারণ সম্ভব। এই প্রক্রিয়ায় শরীরের বাইরে ল্যাবরেটরিতে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর নিষেক ঘটিয়ে ভ্রূণ মায়ের জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়। এছাড়া ডিম্বাণু দাতা (Egg Donation) বা তরুণ বয়সে ডিম্বাণু সংরক্ষণ (Egg Freezing) করে রাখার মাধ্যমেও বেশি বয়সে মাতৃত্বের স্বপ্ন পূরণ করছেন অনেকে। করিনা কাপুর থেকে কোয়েল মল্লিকের মতো তারকারাও ৪০ পেরিয়ে মা হয়ে এই ধারণাকে আরও প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

তবে বেশি বয়সে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে কিছু শারীরিক ঝুঁকিও থাকে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা থাইরয়েডের মতো সমস্যা থাকলে তা মা ও সন্তান উভয়ের জন্যই জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ৪০ ঊর্ধ্ব মাতৃত্বকে ‘হাই রিস্ক প্রেগন্যান্সি’ হিসেবে গণ্য করা হয়, তাই নিয়মিত ডাক্তারি পরীক্ষা ও সতর্ক থাকা জরুরি। তবুও আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে শারীরিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে মাতৃত্বকে বরণ করে নেওয়া এখন আর আসাম্ভব কোনো স্বপ্ন নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *