ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবাকে ইজরায়েলি হুমকির কড়া প্রতিবাদ চিনের
ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইকে লক্ষ্য করে ইজরায়েলের সম্ভাব্য হামলার হুমকির তীব্র বিরোধিতা করেছে চিন। সোমবার চিনা বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন সাফ জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন ইরানের সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। কোনো অজুহাতেই অন্য দেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা চিনের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। বেজিং স্পষ্ট করেছে যে, ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান জানানো আন্তর্জাতিক কূটনীতির অপরিহার্য শর্ত।
পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে চিনের এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইজরায়েলি সামরিক বাহিনীর হুমকির প্রেক্ষাপটে চিন এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ আগ্রাসন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে চিনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের পাশাপাশি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে বেজিং।
রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবেও ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে চিন। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে বেজিং তাদের ৪০০ বিলিয়ন ডলারের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চুক্তি বজায় রেখেছে। কূটনৈতিক স্তরে সমর্থনের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমেও দুই দেশের সম্পর্ক মজবুত হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার এই সংকট বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণে চিন ও ইরানের অক্ষকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে বলে মনে করা হচ্ছে।