সন্তানকে খুঁজতে গিয়ে বাংলাদেশের জেলবাস, আড়াই বছর পর দেশে ফিরে ফের বিয়ে দম্পতির

প্রথম পক্ষের সন্তানকে খুঁজতে বাংলাদেশে গিয়ে আড়াই বছর কারাবাসের পর অবশেষে ভারতে ফিরলেন বনগাঁর ফাল্গুনী রায়চৌধুরী। তাঁর প্রথম স্বামী বাংলাদেশি নাগরিক পরিচয় গোপন করায় বিবাহবিচ্ছেদ হলেও, সন্তানকে নিয়ে তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে যান। ২০২৩ সালে বৈধ নথিপত্র নিয়ে ছেলের খোঁজে সেখানে গিয়ে বিপাকে পড়েন ফাল্গুনী। অভিযোগ, তাঁর পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে তাঁকে বিডিআর-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়, যার ফলে অনুপ্রবেশের দায়ে তাঁকে জেল খাটতে হয়।
ফাল্গুনীর বর্তমান স্বামী প্রসেনজিৎ চৌধুরী হাল না ছেড়ে ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে যান। দুই দেশের প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এবং আদালতের নির্দেশে সাজা মুকুব হওয়ার পর, গেদে সীমান্ত দিয়ে ফাল্গুনী স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। স্ত্রীকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত প্রসেনজিৎ তাঁকে স্বাগত জানান এবং দীর্ঘ বিচ্ছেদের অবসান ঘটিয়ে তাঁরা পুনরায় দাম্পত্য জীবনে আবদ্ধ হন।
এই ঘটনাটি কোনো চলচ্চিত্রের গল্পের চেয়ে কম নয়, যা বনগাঁর বোয়ালদহ এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ফাল্গুনীর ফিরে আসায় পরিবারে খুশির আমেজ বিরাজ করছে। প্রশাসনের তৎপরতায় এই মানবিক সমস্যার সমাধান হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। দুই দেশের কূটনৈতিক সহযোগিতার ফলেই একজন ভারতীয় নাগরিকের ঘরে ফেরা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।