ইরান-আমেরিকা সংঘাত, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের আশঙ্কায় বিপাকে বিশ্ব অর্থনীতি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ঘনীভূত সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা করছেন সমর বিশেষজ্ঞরা। বিখ্যাত চিনা যুদ্ধকৌশলী সুন জু-র দর্শন অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে কোনো পক্ষই লাভবান হয় না। ইরানের বিশাল ভৌগোলিক পরিধি এবং গেরিলা যুদ্ধে তাদের পারদর্শিতা আমেরিকা ও ইজরায়েলের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সামরিক ইতিহাসবিদ অধ্যাপক হুঘ স্ট্রাখেনের মতে, এই সংঘাত দ্রুত সমাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ, যা শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষের জন্যই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আকাশপথে বা সমুদ্রে আধিপত্য বিস্তার করে ইরানকে কাবু করা সহজ নয়। ইরাক বা আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি ঘটার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে এখানেও। কারণ, ইরান এই যুদ্ধকে তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছে। সুন জু-র যুদ্ধনীতি অনুযায়ী, সুসংগঠিত এবং সুরক্ষিত ঘাঁটিতে সরাসরি আক্রমণ কেবল ব্যয়বহুলই নয়, বরং আক্রমণকারী দেশের জাতীয় মনোবল ও রাজকোষকেও ধ্বংস করে দেয়। ফলে এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব রাজনীতিতে এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হবে।
এই ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল, যা পরোক্ষভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঘটাবে। মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য এই অর্থনৈতিক মন্দা এক চরম অনিশ্চয়তার বার্তা দিচ্ছে। ইতিহাস সাক্ষী দিচ্ছে যে, আধুনিক যুদ্ধ কেবল রণক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা সাধারণ মানুষের পকেট ও জীবনযাত্রার মানকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তাই এই সংঘাতের গতিপ্রকৃতি এখন সারা বিশ্বের উদ্বেগের কারণ।