আরবদুনিয়ায় যুদ্ধের নতুন সমীকরণ, ইরানের সস্তা ড্রোন বনাম মার্কিন হাই-টেক প্রযুক্তি

আরবদুনিয়ার রণকৌশল এখন আর কেবল প্রথাগত গোলাবারুদের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন প্রযুক্তি ও ব্যয় সক্ষমতার এক জটিল প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। একদিকে ইরান তাদের স্বল্পমূল্যের ‘শাহেদ’ ড্রোন এবং শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর ভিত্তি করে ‘ঝাঁক আক্রমণ’ কৌশল গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এই আক্রমণ মোকাবিলায় অত্যন্ত ব্যয়বহুল স্টিলথ বিমান, তোমাহক ক্রুজ মিসাইল এবং উন্নত প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। দুই পক্ষের এই বিপরীতধর্মী সামরিক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।
ইরানের সামরিক শক্তির মূল ভিত্তি হলো তাদের তৈরি শাহেদ-১৩৬ এবং শাহেদ-১৩১ ড্রোন, যা তুলনামূলক সস্তায় তৈরি করা যায় কিন্তু শত্রুপক্ষের রাডার ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে সক্ষম। এর পাশাপাশি শাহাব-৩ এবং অত্যাধুনিক ফাত্তাহ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের অস্ত্রভাণ্ডারকে আরও শক্তিশালী করেছে। ইরানের এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো একসঙ্গে প্রচুর পরিমাণ সস্তা ড্রোন ও মিসাইল উৎক্ষেপণ করে শত্রুর আকাশসীমা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা, যাতে অন্তত কিছু লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব হয়।
পাল্টা জবাবে আমেরিকা তাদের প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে বি-২ স্পিরিট এবং জিবিইউ-৫৭ বাঙ্কার-ব্লাস্টার বোমার মতো বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহার করছে, যা মাটির গভীরে থাকা স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম। তবে ইরানের সস্তা ড্রোনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত দামি প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যবহার করা অর্থনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ফলে পেন্টাগন এখন খরচ কমাতে লেজার-গাইডেড রকেটের মতো বিকল্প প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধটি কেবল আধুনিক অস্ত্রের লড়াই নয়, বরং কে কতদিন আর্থিক ও সামরিকভাবে টিকে থাকতে পারে, সেই সহনশীলতার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।