হরমুজ সংকট: ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে অর্থনীতি বনাম সামরিক ঝুঁকির কঠিন চ্যালেঞ্জ

হরমুজ সংকট: ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে অর্থনীতি বনাম সামরিক ঝুঁকির কঠিন চ্যালেঞ্জ

ইরান সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি ভারতেও পড়ছে। কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশগুলোতে তেল মজুতের জায়গা না থাকায় উৎপাদন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসন তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে নৌবাহিনীর পাহারায় পার করার পরিকল্পনা করছে। তবে পারস্য উপসাগরে ইরানের মোতায়েন করা সমুদ্র মাইন, আত্মঘাতী নৌকা এবং শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার কারণে এই অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মার্কিন রণতরী ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’ প্রস্তুত থাকলেও, সরাসরি সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় পেন্টাগন এখন দোটানায় রয়েছে।

সংকট কাটাতে আমেরিকা রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং ভেনেজুয়েলার উৎপাদন বাড়ানোর মতো বিকল্প পথ খুঁজছে। সামনেই মার্কিন নির্বাচন, তাই পেট্রোলের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা ট্রাম্পের কাছে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২১ মাইল চওড়া এই কৌশলগত জলপথটি পুনরায় উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতির এই অচলাবস্থা কাটার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *