হরমুজ প্রণালীতে সংকটে এলপিজি সরবরাহ, পরিস্থিতি সামাল দিতে মোদীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

হরমুজ প্রণালীতে সংকটে এলপিজি সরবরাহ, পরিস্থিতি সামাল দিতে মোদীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

ইরান-ইজরায়েল ও আমেরিকার ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাতের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতে এলপিজি সরবরাহে বড়সড় টান পড়েছে। এই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঙ্গলবার পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ গ্রাহকদের ওপর এই সংকটের প্রভাব কমাতে বিকল্প আমদানির পথ ও উৎসের সন্ধানে আলোচনা করা হয় এই বৈঠকে।

ভারতের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬২ শতাংশ আমদানি করা হয়, যার সিংহভাগই আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে এই হরমুজ প্রণালী হয়ে। বর্তমানে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক দেশের রিফাইনারিগুলোকে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি মজুতদারি রুখতে সিলিন্ডার বুকিংয়ের সময়সীমা ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করেছে। আমদানিকৃত গ্যাসের একটি অংশ হাসপাতাল ও জরুরি পরিষেবার জন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।

সরবরাহে ঘাটতির ফলে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বিশেষ করে হোটেল, রেস্তরাঁ ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় তেল বিপণন সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে গ্যাস বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেবে। মুম্বই ও বেঙ্গালুরুর মতো বড় শহরগুলোতে ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিক এলপিজির অভাব দেখা দিয়েছে। সরকার আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এই ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *