ব্রাজিলের ফুটবল মাঠে ধুন্ধুমার এক ম্যাচে ২৩ জন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখিয়ে বিশ্বজুড়ে শোরগোল ফেলে দিলেন রেফারি

ফুটবল মাঠে উত্তেজনা ছড়ানো নতুন কিছু নয়, তবে ব্রাজিলের মিনেইরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে যা ঘটল তা ফুটবল ইতিহাসের বিরলতম ঘটনার একটি। ক্রুজেইরো এবং আতলেতিকো মিনেইরোর মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচটি রূপ নিল আস্ত এক রণক্ষেত্রে। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, রেফারি ম্যাথিয়াস দেলগাদো কানদানকানকে দুই দলের মোট ২৩ জন ফুটবলারকে লাল কার্ড দেখাতে হয়েছে।
ম্যাচ চলাকালীন ক্রুজেইরোর মিডফিল্ডার ক্রিস্টিয়ান ও গোলরক্ষক এভারসন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেও আসল নাটক শুরু হয় ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর। রেফারির অফিশিয়াল রিপোর্ট অনুযায়ী, হাতাহাতিতে জড়ানোর অপরাধে ক্রুজেইরোর ১২ জন এবং আতলেতিকো মিনেইরোর ১১ জন ফুটবলারকে লাল কার্ড দেওয়া হয়। ব্রাজিলের সিনিয়র ফুটবলের ইতিহাসে এটিই এক ম্যাচে সর্বোচ্চ লাল কার্ডের রেকর্ড। এর আগে ১৯৫৪ সালে রিও-সাও পাওলো টুর্নামেন্টে ২২ জন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেছিলেন, দীর্ঘ ৭২ বছর পর সেই রেকর্ড ভেঙে গেল।
তবে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখার বিশ্ব রেকর্ডটি এখনও আর্জেন্টিনার দখলে। ২০১১ সালে দেশটির পঞ্চম বিভাগের এক ম্যাচে আতলেতিকো ক্লেপোল এবং ভিক্টোরিয়ানো অ্যারেনাসের মধ্যকার লড়াইয়ে দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ মিলিয়ে মোট ৩৬ জনকে লাল কার্ড দেখিয়েছিলেন রেফারি দামিয়ান রুবিনো। সেই ঘটনায় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম উঠেছিল ম্যাচটির।
ব্রাজিলের এই সাম্প্রতিক ঘটনায় ফুটবল মহলে বইছে বিতর্কের ঝড়। মাঠের লড়াই যখন ব্যক্তিগত আক্রোশ আর সংঘর্ষে রূপ নেয়, তখন ফুটবলের নান্দনিকতা যে কতটা ম্লান হয়ে যায়, এই ম্যাচটি আবারও তা প্রমাণ করল। লাতিন আমেরিকার ফুটবলে আবেগের আতিশয্য মাঝে মাঝেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্ম দেয়, যা ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এক কালো অধ্যায় হয়ে থেকে যায়।