বাংলার বুথে বুথে এবার কড়া নজরদারি এবং বাড়তি সুবিধা নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার

পশ্চিমবঙ্গে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার রাজ্যে ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কোনো বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে না। স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করাই কমিশনের একমাত্র লক্ষ্য এবং নির্বাচনের কাজে নিযুক্ত আধিকারিকদের কোনো গাফিলতি ধরা পড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গণতন্ত্রের এই উৎসবে বাংলার মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রশংসা করে তিনি জানান, এ রাজ্যে ভোটের হার সবসময়ই আশাব্যঞ্জক থাকে। এবারের নির্বাচনে রাজ্যে ৮০ হাজারের বেশি পোলিং স্টেশন থাকছে, যার প্রতিটিতেই থাকবে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা। ভোটারদের সুবিধার্থে প্রতিটি বুথে সর্বোচ্চ ১২০০ জন ভোটার নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এছাড়া ইভিএম মেশিনে এবার প্রার্থীর নামের পাশাপাশি থাকবে রঙিন ছবি।
ভোটারদের জন্য বুথগুলোতে থাকছে বিশেষ কিছু সুবিধা ও কড়াকড়ি। প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য হুইলচেয়ার এবং তা পরিচালনার জন্য ভলান্টিয়ার মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি বুথে পানীয় জল ও ভোটার সহায়তা কেন্দ্র রাখা হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে বুথের ভেতরে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তবে বাইরে ফোন রাখার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা থাকবে। ভোটাররা বাড়ি বসেই পেয়ে যাবেন ইনফরমেশন স্লিপ এবং ইসিআইনেট অ্যাপের মাধ্যমে নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করা যাবে।
যুব ভোটারদের উৎসাহিত করতে কলেজগুলোতে বিশেষ প্রচার চালানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এছাড়া ভোটের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পোলিং অফিসাররা প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর ভোটের হার জানাবেন। এমনকি ভোট গণনার সাত দিনের মধ্যে কোনো প্রার্থী চাইলে ইভিএম পরীক্ষার আবেদন করতে পারবেন। রাজ্যে কত দফায় ভোট হবে, তা সম্পূর্ণভাবে আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।