টাকার লোভে এক মাসেই তিনবার বিক্রি হওয়া তরুণীর বিষপান এবং মহারাষ্ট্রের লোমহর্ষক ঘটনা

টাকার লোভে এক মাসেই তিনবার বিক্রি হওয়া তরুণীর বিষপান এবং মহারাষ্ট্রের লোমহর্ষক ঘটনা

মহারাষ্ট্রের বীড জেলায় একবিংশ শতাব্দীতেও একবিংশ বছরের এক তরুণীর ওপর ঘটে যাওয়া অমানবিক ও পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় শিউরে উঠছে গোটা দেশ। টাকার লোভে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ওই তরুণীকে তিনবার ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ক্রমাগত এই লাঞ্ছনা ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নেন ওই নির্যাতিতা। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

লাতুরের বাসিন্দা ওই তরুণী দুই বছর আগে প্রথম বিবাহ করেছিলেন। কিন্তু স্বামীর অত্যাচারের কারণে তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। সেখানে পুনের হাডপসারের মহানন্দা নামে এক এজেন্টের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। মহানন্দা তাকে সুন্দর ভবিষ্যতের এবং দ্বিতীয় বিবাহের স্বপ্ন দেখিয়ে পুনেতে নিয়ে আসেন। কিন্তু সেখানেই শুরু হয় চরম প্রতারণা। মহানন্দা ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে অমর কালভোর নামে এক ব্যক্তির কাছে ওই তরুণীকে জোরপূর্বক বিয়ে দেয়।

নির্যাতন সেখানেই শেষ হয়নি। মাত্র দশ দিনের মাথায় ওই তরুণীকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে ৪.৫ লক্ষ টাকায় দ্বিতীয় এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়। এরপর গত ৪ মার্চ আষ্টি তালুকের কান্দি বুদ্রুকের এক ব্যক্তির সঙ্গে ৪.৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে তাকে তৃতীয়বার বিবাহে বাধ্য করা হয়। এই নারকীয় পরিস্থিতির মধ্যেই অভিযুক্ত মহানন্দা ওই তরুণীকে ফোন করে চতুর্থ বিবাহের জন্য প্রস্তুত হতে বলে। বারবার পণ্য হিসেবে বিক্রি হওয়া এবং ভবিষ্যতের অন্ধকারের কথা ভেবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ওই তরুণী এবং বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে মিরাজগাঁওয়ের একটি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে আষ্টি পুলিশ মূল অভিযুক্ত মহানন্দা, তার স্বামী এবং তুলজাপুরের আরও দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩১৮ এবং ৬১ ধারায় মানব পাচার ও প্রতারণার মামলা দায়ের করেছে। এক মাসের মধ্যে তিনবার বিক্রি হওয়ার এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই সমাজজুড়ে তীব্র নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *