নেপালে বলেন্দ্র শাহের ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল পুরনো সব দল

নেপালের সংসদীয় নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্যের পথে তরুণ প্রজন্মের পছন্দের দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র বলেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন এই দল দেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে একক আধিপত্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেপাল পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভস’-এর প্রত্যক্ষ নির্বাচনে ১৬৫টি আসনের মধ্যে ১২৫টিতেই জয়লাভ করেছে আরএসপি। অন্যদিকে, সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতির ১১০টি আসনের মধ্যে ভোট শতাংশের নিরিখে আরও প্রায় ৫২টি আসনে তাদের জয় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে পার্লামেন্টে আরএসপি-র মোট আসন সংখ্যা ১৭৫ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
ভোটের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বলেন্দ্র শাহের দল আরএসপি প্রায় ৫০,৪৫,২১৯টি (৪৮ শতাংশ) ভোট পেয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এর বিপরীতে নেপালি কংগ্রেস পেয়েছে ১৭,১৯,৬৪১টি (১৬.২ শতাংশ) ভোট। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সিপিএন-ইউএমএল ১৩.৫ শতাংশ এবং পুষ্পকমল দহাল ওরফে প্রচণ্ডের দল মাত্র ৭.৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে। রাজতন্ত্রপন্থী রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি প্রত্যক্ষ ভোটে মাত্র একটি আসনে জয় পেয়েছে।
এই ঐতিহাসিক জয়ের ইঙ্গিত মিলতেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টেলিফোনে আরএসপি-র প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী বলেন্দ্র শাহ এবং দলের চেয়ারম্যান রবি লামিছানের সঙ্গে কথা বলেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মোদী এই সাফল্যের জন্য তাঁদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ভারত নেপালের নতুন সরকারের সঙ্গে পারস্পরিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যৌথ উদ্যোগে দুই দেশের সম্পর্ক আগামী দিনে আরও মজবুত হবে বলেও তিনি আশাপ্রকাশ করেন। নেপালের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে।