জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে বাংলাদেশ মেটাতে ত্রাতা হতে পারে ভারতই

ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার ভারতের কাছে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের আবেদন জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ মজুত কমে যাওয়ায় ঢাকা এই কঠিন সময়ে দিল্লির সহযোগিতার অপেক্ষায় রয়েছে।
বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী ভারত নিয়মিতভাবে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) আসামের নুমালিগড় শোধনাগার থেকে অতিরিক্ত ৫ হাজার টন ডিজেল চেয়েছে। আগামী চার মাসের জন্য মোট ৫০ হাজার টন অতিরিক্ত ডিজেল আমদানির এই প্রস্তাবটি ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় বর্মার সঙ্গে বৈঠকে উত্থাপন করেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মেহমুদ চৌধুরী।
বর্তমানে বাংলাদেশে জ্বালানি পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে সরকার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা এবং জ্বালানি রেশনিংয়ের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। দেশের ৯৫ শতাংশ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই সংকট জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। ২০১৭ সালে চালু হওয়া ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে যে বাণিজ্যিক জ্বালানি সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নয়াদিল্লি জানিয়েছে তারা ভারতের নিজস্ব মজুত এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ঢাকার এই অনুরোধ বিবেচনা করবে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝে এই জ্বালানি সহযোগিতা সম্পর্ক মেরামতের ক্ষেত্রে একটি বড় ধাপ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিবেশী দেশের চাহিদা পূরণে ভারতের চিরাচরিত ভূমিকার দিকেই এখন তাকিয়ে আছে ঢাকা।