হরমুজ প্রণালীতে অশান্তি: জ্বালানি ছাড়িয়ে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় ভারত

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা-ইজরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধ দ্বাদশ দিনে গড়িয়েছে। সংঘাতের জেরে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভারতের আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ, বিশেষত ইরাক, সৌদি আরব ও কুয়েত থেকে আসা দৈনিক প্রায় ২৭ লক্ষ ব্যারেল তেল এই পথেই পৌঁছায়। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারের পাশাপাশি দেশের বাজারেও অস্থিরতার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

তবে এই সংকটের প্রভাব কেবল তেল বা গ্যাসে সীমাবদ্ধ নয়। ব্রোকারেজ ফার্ম জেফরিসের তথ্য অনুযায়ী, ভারত মধ্যপ্রাচ্য থেকে সার, পেট্রোকেমিক্যাল, প্লাস্টিক ও হীরা কাটার সরঞ্জামের মতো প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। হরমুজ প্রণালী দীর্ঘকাল অবরুদ্ধ থাকলে কৃষি ও শিল্প খাতের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে রাসায়নিক ও নির্মাণ সামগ্রীর জোগান কমলে এগুলোর দাম একলাফে অনেকটা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পরিবহন ব্যবস্থা থমকে যাওয়ায় রিয়েল এস্টেট এবং রাস্তা নির্মাণ শিল্পের প্রয়োজনীয় অ্যাসফল্ট ও যন্ত্রপাতির আমদানিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে কৃষি থেকে শুরু করে পরিকাঠামো উন্নয়ন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে টান ফেলবে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই নৌপথ সচল না হলে ভারতের উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কা আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *