সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘প্যারাসোশাল’ প্রেমের মায়াজাল, বিপাকে নবপ্রজন্ম

বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ার অত্যধিক ব্যবহারে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ‘প্যারাসোশাল’ সম্পর্কের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। ইউটিউব বা ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সারদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা দেখতে দেখতে নেটিজেনরা তাঁদের আপন ভাবতে শুরু করছেন। এই একপাক্ষিক মানসিক টানে প্রিয় সেলিব্রিটির প্রতি তৈরি হচ্ছে গভীর আবেগ ও ভালোবাসা, যদিও সেই তারকা সংশ্লিষ্ট অনুরাগী সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত থাকেন।
১৯৫০ সালে সমাজবিজ্ঞানী ডোনাল্ড হর্টন এবং রিচার্ড ওহল প্রথম এই ধারণার অবতারণা করেন। তাঁদের মতে, পর্দার জগতের মানুষের সঙ্গে দর্শকরা যখন একতরফা মানসিক বন্ধন অনুভব করেন, তাকেই প্যারাসোশাল সম্পর্ক বলা হয়। এই সম্পর্কের মায়াজালে আচ্ছন্ন হয়ে ভক্তরা ভাবতে শুরু করেন যে তাঁরা পছন্দের তারকাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন, যা আদতে একটি কাল্পনিক জগত মাত্র।
গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও একাকীত্বই এই ধরনের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণ। যাদের বাস্তব জীবনে বন্ধুর অভাব, তাঁরাই মূলত ভ্লগার বা তারকাদের ভিডিওতে বুঁদ হয়ে থাকেন। প্রিয় ইনফ্লুয়েন্সারের ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্কে বিচলিত হওয়া বা তাঁদের হয়ে সামাজিক মাধ্যমে লড়াই করা এই মানসিক অবস্থার লক্ষণ। এই একপাক্ষিক মোহের ফাঁদ থেকে সতর্ক থাকাই শ্রেয়।