আমেরিকা ও হরমুজ সংকটের মাঝেই ভারতের মাস্টারস্ট্রোক ৪০ দেশ থেকে তেল আমদানির রেকর্ড প্রস্তুতি

মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে বড়সড় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ থমকে যাওয়ার উপক্রম। এই কঠিন পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত কৌশলী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ভারত। আমদানির উৎস ও রুট বদলে ফেলে ভারত এখন ভেনেজুয়েলাসহ বিশ্বের ৪০টি দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহের ওপর জোর দিচ্ছে।
ভারত সরকারের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগে যেখানে মাত্র ২৭টি দেশ থেকে তেল আমদানি করা হতো, বর্তমানে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৪০ করা হয়েছে। এর ফলে আমদানিকৃত তেলের প্রায় ৬০ শতাংশই এখন নতুন ও বিকল্প রুট দিয়ে দেশে পৌঁছাচ্ছে, যা আগে ছিল মাত্র ৫৫ শতাংশ। আমদানির এই বৈচিত্র্য তেলের সরবরাহ নিয়ে তৈরি হওয়া ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে ভারতের তেল আমদানির তালিকায় সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ছাড়াও আলজেরিয়া, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, নাইজেরিয়া, নরওয়ে, প্যানামা, ব্রিটেন, আমেরিকা এবং ভেনেজুয়েলার মতো দেশগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
রাশিয়া এখনও ভারতের প্রধান তেল সরবরাহকারী দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। মাসিক প্রায় ১.০৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রাশিয়া থেকে কেনা হচ্ছে, যা মোট সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ। তবে বিকল্প রুটে তেল পরিবহনের কারণে জাহাজ ভাড়া এবং বিমার খরচ কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো হঠাৎ বিপর্যয় মোকাবিলা করতে ভারত সরকার পর্যাপ্ত প্রস্তুতিও সেরে রেখেছে। বর্তমানে দেশে টানা ৭৪ দিনের জ্বালানি চাহিদার সমান তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য মজুত রয়েছে, যা যেকোনো আন্তর্জাতিক সংকটে শক্তিশালী সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করবে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কড়া অবস্থানের কারণে আমেরিকা তীব্র হুঁশিয়ারি জারি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক জলপথে তেলের প্রবাহে বিঘ্ন ঘটানো হলে তার ফল হবে ভয়াবহ। এই কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার আবহে ভারতের বহুমুখী তেল আমদানি নীতি দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।