আজ রাতেই কি ইরানে আমেরিকার সবথেকে বড় হামলা? পেন্টাগনের হুঁশিয়ারিতে যুদ্ধের চরম উত্তেজনা

আজ রাতেই কি ইরানে আমেরিকার সবথেকে বড় হামলা? পেন্টাগনের হুঁশিয়ারিতে যুদ্ধের চরম উত্তেজনা

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়িয়ে এবার চরম হুঁশিয়ারি দিল আমেরিকা। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মঙ্গলবার জানিয়েছেন, আজ রাতেই ইরানের ভেতরে মার্কিন বাহিনীর সবচেয়ে বড় ও বিধ্বংসী হামলা হতে পারে। ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, এই অভিযানে সবথেকে বেশি সংখ্যক যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমান ব্যবহার করা হবে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের দাবি অনুযায়ী, আমেরিকা এই যুদ্ধে ইতিমধ্যেই বড় সাফল্য পেয়েছে এবং ইরানের সামরিক শক্তি ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ছে। তবে যুদ্ধ কবে শেষ হবে, সেই বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা না জানিয়ে তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ঘরোয়া রাজনীতি ও বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকটের কারণে প্রবল চাপের মুখে থাকলেও যুদ্ধের পথ থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।

অন্যদিকে, আমেরিকার এই হুমকির কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ নেতা আলি লারিজানি এক বার্তায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, অতীতেও অনেক শক্তিশালী দেশ ইরানকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে এবং তারা নিজেরাই ইতিহাস থেকে মুছে গেছে। ইরান বরাবরই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসছে, যদিও গত বছর মার্কিন হামলায় তাদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে দাবি করেন ট্রাম্প।

বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। স্ট্রেট অব হরমুজ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রিজার্ভারে পাল্টা আঘাত হানায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে। ট্রাম্প স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা দিলে ইরানকে ‘আগুন ও ধ্বংসের’ মুখোমুখি হতে হবে। এই সংঘাতে ইজরায়েল আমেরিকার শক্তিশালী মিত্র হিসেবে কাজ করলেও, হেগসেথ জানিয়েছেন যে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালানো সবসময় আমেরিকার মূল লক্ষ্য নয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলে এ পর্যন্ত ১৭০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এরই মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনির মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে। সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ যুদ্ধের আশঙ্কায় কাঁপছে বিশ্ব অর্থনীতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *