বঙ্গভোটের মুখে ইস্তফা দিয়ে দিল্লি গেলেন আনন্দ বোস, পদত্যাগের পিছনে রাজনৈতিক চক্রান্তের অভিযোগ তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে রাজ্যপালের পদ থেকে সিভি আনন্দ বোসের ইস্তফাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্যের রাজনীতি। মঙ্গলবার ধর্মতলার ধর্না মঞ্চ থেকে বিদায়ী রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘক্ষণ সাক্ষাতের পর তিনি এই পদত্যাগের নেপথ্যে রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পাঁচ বছরের মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও দেড় বছর আগে কেন তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সফরের ঠিক আগে এই ঘটনা কাকতালীয় নয়।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান যে, বিদায়ী রাজ্যপালকে তিনি পুনরায় বাংলায় আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “আপনি বাংলাটা ভালো বোঝেন, তাই বাংলায় আবার আসুন।”
উল্লেখ্য, গত সোমবার হঠাৎই রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফা দেন সিভি আনন্দ বোস। রাষ্ট্রপতিকে পাঠানো চিঠিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেও পদত্যাগের কারণ স্পষ্ট করেননি। এরপরই তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তামিলনাড়ুর বর্তমান রাজ্যপাল আর এন রবির নাম উঠে আসে। ১৯৭৬ ব্যাচের আইপিএস অফিসার রবি এর আগে নাগাল্যান্ড ও মেঘালয়ের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, নিয়ম অনুযায়ী রাজ্যপালকে বাগডোগরায় রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাঁকে দিল্লি তলব করা হয়। বর্তমানে তিনি রাজভবনের পরিবর্তে রাজ্য সরকারের গেস্ট হাউস ‘সৌজন্য’-তে থাকছেন। বিদায়ী রাজ্যপাল বাংলায় ভোট দিতে আসবেন কি না, সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে তিনি এ রাজ্যের ভোটার, তাই ভোট দিতে নিশ্চয়ই আসবেন।