ইন্ডিগো থেকে বিদায় নিলেন পিটার এলবার্স সংকটের মুখে মাঝ আকাশে হাল ধরলেন খোদ রাহুল ভাটিয়া

দেশের বৃহত্তম বিমান পরিষেবা সংস্থা ইন্ডিগোতে বড়সড় রদবদল ঘটল। গত ডিসেম্বরের নজিরবিহীন উড়ান বিপর্যয়ের দায় নিয়ে সোমবার পদত্যাগ করলেন সংস্থার চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার বা সিইও পিটার এলবার্স। স্টক এক্সচেঞ্জ ফাইলিংয়ের মাধ্যমে ইন্ডিগো জানিয়েছে, এলবার্সের পদত্যাগপত্র অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে। নতুন সিইও নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাহুল ভাটিয়া নিজেই এয়ারলাইন্সের দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনা করবেন।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেওয়া এলবার্সের আমলে ইন্ডিগো আন্তর্জাতিক স্তরে অভাবনীয় বিস্তার ঘটিয়েছিল। তাঁর নেতৃত্বেই সংস্থাটি ‘লো-কস্ট ক্যারিয়ার’ থেকে বেরিয়ে বিজনেজ ক্লাস এবং ইউরোপের বিভিন্ন শহরে সরাসরি উড়ান শুরু করে। এমনকি তাঁর আমলেই ইন্ডিগো বিশ্বের বৃহত্তম এয়ারক্রাফট অর্ডারের রেকর্ড গড়েছিল। তবে গত বছরের ৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া অপারেশনাল ‘মেল্টডাউন’ তাঁর সাফল্যের খতিয়ানে বড় ক্ষত তৈরি করে। নতুন পাইলট ডিউটি রোস্টার এবং বিশ্রাম সংক্রান্ত নিয়ম পালনে ব্যর্থতার জেরে এক সপ্তাহে কয়েক হাজার উড়ান বাতিল হয়। গত ৫ ডিসেম্বর এক দিনেই ১,৬০০-র বেশি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার জেরে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন বা ডিজিসিএ ইন্ডিগোকে ২২.২০ কোটি টাকা জরিমানা করে, যা ভারতের বিমান চলাচলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
দায়িত্ব নেওয়ার পর মঙ্গলবার কর্মীদের একটি আবেগঘন ইমেল পাঠিয়েছেন রাহুল ভাটিয়া। সেখানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করেছেন যে, গত ডিসেম্বরে যা ঘটেছে তা হওয়া উচিত ছিল না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গ্রাহক এবং সামনের সারির কর্মীরা এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন যা তাঁদের প্রাপ্য ছিল না। ইমেলের শেষে ‘ম্যায় হুঁ না’ লিখে কর্মীদের আশ্বস্ত করেছেন তিনি। মূলত গত তিন মাসের টানাপোড়েন এবং সরকারি চাপের মুখে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হলো অভিজ্ঞ বিমান বিশেষজ্ঞ পিটার এলবার্সকে।