নবান্ন নয় রাইটার্স থেকেই চলবে সরকার তৃণমূলের বিসর্জন নিশ্চিত করলেন শমীক ভট্টাচার্য

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজিয়ে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের ভাতার বাজারে আয়োজিত এক জনসভা থেকে তিনি সাফ ঘোষণা করেন যে, আগামী দিনে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন থেকে নয় বরং ঐতিহ্যের রাইটার্স বিল্ডিং থেকেই রাজ্য পরিচালনা করবেন। তৃণমূলের পরাজয় এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা বলে দাবি করেন তিনি।
ভাতার বাজারের কামারপাড়া মোড়ে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সভায় শমীক ভট্টাচার্য বলেন, পৃথিবীর কোনও শক্তি তৃণমূলকে চতুর্থবার ক্ষমতায় ফেরাতে পারবে না। তাঁর মতে, ২০২৬-এর নির্বাচন আসলে তৃণমূলের বিসর্জন। তিনি দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই রাইটার্স ছেড়ে নবান্নে প্রশাসন নিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় এসে পুনরায় পুরোনো কেন্দ্র থেকেই কাজ শুরু করবে।
ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া সতর্কবার্তাকে ‘অসাংবিধানিক’ এবং ‘বিভাজনমূলক’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তিনি অভিযোগ করেন, পরাজয়ের হতাশা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী দাঙ্গা ও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে তিনি পাল্টা দাবি করেন, রাজ্যে গত তিন বছরে হওয়া খুনের ঘটনার নিরানব্বই শতাংশই সংখ্যালঘু এবং প্রতিটি ঘটনায় তৃণমূল কাঠগড়ায় রয়েছে।
বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির উদাহরণ টেনে শমীক বলেন, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ বা মধ্যপ্রদেশে দাঙ্গা বন্ধ হয়েছে, কিন্তু মালদা, মুর্শিদাবাদ বা বর্ধমানের পরিস্থিতি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মানুষ দেখছেন। মুখ্যমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি বিচারব্যবস্থার হস্তক্ষেপও দাবি করেন।
রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া নিয়ে বিজেপির অনড় অবস্থানের কথা পুনরায় মনে করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, নো এসআইআর নো ভোট। তাঁর কটাক্ষ, মুখ্যমন্ত্রীর লড়াই আসলে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের ভোটার লিস্টে রাখার জন্য, সাধারণ মানুষের স্বার্থে নয়। এদিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কালো পতাকা দেখানো নিয়েও তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন শমীক ভট্টাচার্য।