নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মমতার অভিনব প্রতিবাদে এবার তুলি আর ক্যানভাস

ভোটার তালিকা থেকে গণহারে নাম বাদ পড়ার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ধার আরও বাড়ালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মধ্য কলকাতার মেট্রো চ্যানেলে তাঁর অবস্থান কর্মসূচির পঞ্চম দিনে এক ভিন্নধর্মী প্রতিবাদ প্রত্যক্ষ করল রাজ্য রাজনীতি। মঙ্গলবার ধরনামঞ্চে রাখা একটি সবুজ বোর্ডে রং-তুলি হাতে প্রতীকী ছবি এঁকে কমিশনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বোর্ডের উপরে ‘এসআইআর’ এবং মাঝখানে সাদা রঙে ‘গায়েব’ শব্দটি লিখে এক বিশেষ বার্তা দেন। এরপর তুলির টানে গোল চিহ্ন এবং মানচিত্রের মতো রেখাচিত্র এঁকে তিনি বোঝাতে চান কীভাবে ভোটার তালিকা থেকে প্রকৃত ভোটারদের নাম মুছে ফেলা হচ্ছে। যখন মুখ্যমন্ত্রী এই শৈল্পিক প্রতিবাদে মগ্ন ছিলেন, ঠিক সেই সময়ই দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
গত ৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই অবস্থানে তৃণমূল নেত্রীর মূল অভিযোগ, বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ার নামে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। মমতার দাবি, নির্বাচন কমিশন বিজেপির ইশারায় কাজ করে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে।
এই ইস্যুতেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সাংসদরা। সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনকে উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে একটি আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। একজন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারকদের নিয়ে গঠিত এই ট্রাইব্যুনাল সেইসব আবেদন শুনবে যা বিচারিক আধিকারিকরা খারিজ করেছেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, আবেদন কেন খারিজ করা হলো তার কারণও উল্লেখ করতে হবে। রাজ্য সরকারের পক্ষে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী আদালতকে জানান, মোট তেষট্টি লক্ষ মামলার মধ্যে এখনও সাতান্ন লক্ষ মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।