আপনার পকেটে টান পড়তে দেবেন না প্রধানমন্ত্রী মোদী মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আবহে মন্ত্রিসভাকে দিলেন কড়া নির্দেশ

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ইরান, ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের জনজীবনে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, এই সংকটের আঁচ যেন দেশের সাধারণ মানুষের ওপর না পড়ে। বিশেষ করে আকাশছোঁয়া জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধের আজ ১১তম দিন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ থামার কোনও লক্ষণ নেই। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধের ফলে দেশে ইতিমধ্যেই তেল ও রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে অনেক রাজ্যে গ্যাস সিলিন্ডারের সরবরাহ কমে যাওয়ায় হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই কঠিন সময়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী সমস্ত মন্ত্রক ও বিভাগকে একযোগে কাজ করার এবং যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তেল ও গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে ভারত সরকার ইতিমধ্যেই বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেছে। তেল শোধনাগারগুলিকে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দেশীয় সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি ও অবৈধ মজুত রুখতে জারি করা হয়েছে ‘২৫ দিনের আন্তঃবুকিং’ নিয়ম। পাশাপাশি হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো জরুরি ক্ষেত্রগুলোতে আমদানিকৃত এলপিজি সরবরাহের বিষয়টি তদারকি করতে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিনের মন্ত্রিসভা বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য সংকট ছাড়াও দেশের পরিকাঠামো উন্নয়নে ৬টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:
১. জল জীবন মিশন ২.০ প্রকল্পের অনুমোদন।
২. মাদুরাই বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বীকৃতি।
৩. জেওয়ার ও ফরিদাবাদের মধ্যে সংযোগকারী এলিভেটেড রোডের অনুমোদন।
৪. সাঁইথিয়া থেকে পাকুড় পর্যন্ত চতুর্থ রেললাইনের কাজ শুরু।
৫. সাঁতরাগাছি ও খড়গপুরের মধ্যে চতুর্থ রেললাইনের সবুজ সংকেত।
৬. মধ্যপ্রদেশ হাইওয়ে প্রকল্পের ছাড়পত্র।