বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে পাকিস্তানে জারি হলো অঘোষিত লকডাউন

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের লেলিহান শিখা এবার বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের কালমেঘ ঘনিয়ে এনেছে। ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালী বন্ধের উপক্রম এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর তেল শোধনাগারে ক্রমাগত হামলার জেরে টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতি। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতসহ অন্তত দশটি দেশে, যার মধ্যে সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা পাকিস্তানের।
জ্বালানি সাশ্রয়ে কার্যত লকডাউনের পথে হেঁটেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। দেশটিতে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য সমস্ত স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং উচ্চশিক্ষার ক্লাস চলবে শুধুমাত্র অনলাইনে। সরকারি অফিসগুলোতে কাজের দিন কমিয়ে সপ্তাহে চারদিন করা হয়েছে এবং জরুরি পরিষেবা বাদে অর্ধেক কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী দুই মাস সরকারি দপ্তরের জ্বালানি বরাদ্দে ৫০ শতাংশ কাটছাঁট এবং মন্ত্রীদের ভাতা কমানোর মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামাবাদ।
সংকট কেবল পাকিস্তানেই সীমাবদ্ধ নেই। বাংলাদেশেও জ্বালানি সাশ্রয়ে রেশনিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে, যেখানে মোটরসাইকেলের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং গাড়ির জন্য ১০ লিটার তেলের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কায় জ্বালানির দাম বেড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ। মিয়ানমারে তেলের অভাবে পাম্প বন্ধ হওয়ায় মানুষ থাইল্যান্ডে পাড়ি দিচ্ছে এবং সেখানে যানবাহনের জন্য জোড়-বিজোড় নীতি কার্যকর করা হয়েছে। এমনকি আমেরিকা, ফ্রান্স, জার্মানি, পোল্যান্ড এবং ভিয়েতনামের মতো দেশেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জ্বালানির দাম। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি খাদের কিনারায় গিয়ে ঠেকবে।