ভারতে নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি, সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়

দীর্ঘ ১৩ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশে প্রথম নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। ৩২ বছর বয়সি যুবক হরিশ রানা ২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকে কোমায় আচ্ছন্ন ছিলেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত দুটি পৃথক মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শ এবং শারীরিক অবস্থার উন্নতির কোনো সম্ভাবনা না থাকায় বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ এই মানবিক ও ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন।
আদালত হরিশের লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়ার সময় তাঁর বাবা-মায়ের দীর্ঘ লড়াইয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। রায়ে বিচারপতির বেঞ্চ উইলিয়াম শেক্সপিয়রের বিখ্যাত উক্তি উল্লেখ করে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করেন। উল্লেখ্য যে, ভারতে প্রত্যক্ষ নিষ্কৃতিমৃত্যু নিষিদ্ধ হলেও ২০১৮ সালের একটি মামলার প্রেক্ষিতে সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সম্মানের সঙ্গে মৃত্যুকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরিশের এই মামলাটি দেশের বিচারবিভাগীয় ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। নেদারল্যান্ড বা কানাডার মতো দেশে এই ব্যবস্থা প্রচলিত থাকলেও ভারতে এটিই প্রথম প্রয়োগ হতে চলেছে। আবেদনকারীর কৃত্রিম খাদ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থা বন্ধ করার মাধ্যমেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। মূলত অসহনীয় যন্ত্রণা থেকে মুক্তি এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করেই শীর্ষ আদালত এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।