জ্বালানি সংকটে ত্রাতা ভারত যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই পাইপলাইনে এল ৫০০০ টন ডিজেল

পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই সংকটের মুখে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্ব ও বার্ষিক চুক্তির অংশ হিসেবে পাইপলাইনের মাধ্যমে ৫০০০ টন ডিজেল সরবরাহ শুরু করেছে দিল্লি।
মঙ্গলবার থেকে আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ‘বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন’-এর মাধ্যমে এই জ্বালানি আসা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মুহাম্মদ রেজানুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, এই ডিজেল দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছাবে। সোমবার বিকেল থেকে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১১৩ টন হারে তেল পাম্প করা হচ্ছে, যা বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে সম্পূর্ণ সরবরাহ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি বিক্রিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। এই অবস্থায় ভারতের এই সরবরাহ দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবহন ব্যবস্থার ওপর তৈরি হওয়া চাপ অনেকটাই লাঘব করবে। চুক্তি অনুযায়ী ভারত প্রতি বছর ১,৮০,০০০ টন ডিজেল সরবরাহ করবে, যার মধ্যে আগামী ছয় মাসে ৯০,০০০ টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ চুক্তিতে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। আদানি গোষ্ঠীর বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বকেয়া পাওনা নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা কাটিয়ে বর্তমানে তারিক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ভারতের এই পাইপলাইন ভিত্তিক সরবরাহ বাংলাদেশের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরিবহণ খরচ ও সময় সাশ্রয়ী এই পাইপলাইনটি দুই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা পালন করছে।