অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম ব্যালেন্স নেই? জেনে নিন আপনার পকেট থেকে কত টাকা কাটছে ব্যাঙ্ক

দেশের সরকারি ব্যাঙ্কগুলি সঞ্চয় অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম ব্যালেন্স বা মিনিমাম ব্যালেন্স বজায় না রাখার কারণে আমানতকারীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ জরিমানা হিসেবে আদায় করেছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২-২৩ থেকে ২০২৪-২৫ এই তিন আর্থিক বছরে সরকারি ব্যাঙ্কগুলি গ্রাহকদের কাছ থেকে মোট ৮০৯২.৮৩ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। লোকসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এই তথ্য জানিয়েছেন।
অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে কেন্দ্রীয় সরকার ব্যাঙ্কগুলিকে এই জরিমানা মওকুফ করার জন্য কোনও সাধারণ নির্দেশিকা জারি করেনি। তবে অনেক ব্যাঙ্ক নিজস্ব উদ্যোগে এই চার্জ সংশোধন বা মওকুফ করেছে। তথ্য অনুযায়ী, সংগৃহীত এই বিশাল অঙ্কের জরিমানা সরকারি ব্যাঙ্কগুলির মোট আয়ের মাত্র ০.২৩ শতাংশ, যা মূলত ব্যাঙ্কিং পরিষেবা প্রদানের খরচ মেটাতে ব্যবহৃত হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে জরিমানা আদায় করা ব্যাঙ্কগুলির আয়ের মূল লক্ষ্য নয়।
বর্তমানে দেশের প্রায় ৭২ কোটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টকে এই জরিমানার আওতা থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা এবং বেসিক সেভিংস ব্যাঙ্ক ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট। এই অ্যাকাউন্টগুলিতে ন্যূনতম ব্যালেন্স রাখার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।
গ্রাহক পরিষেবার কথা মাথায় রেখে দেশের প্রধান ব্যাঙ্কগুলি ইতিমধ্যেই ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ২০২০ সালের মার্চ মাসেই সেভিংস অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম ব্যালেন্স না রাখার জরিমানা মওকুফ করে দিয়েছিল। ২০২৫ সালের মধ্যে আরও নয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এই পথ অনুসরণ করে জরিমানা পুরোপুরি তুলে নিয়েছে। বাকি দুটি ব্যাঙ্কও জরিমানার পরিমাণ অনেকটা কমিয়ে এনেছে বলে অর্থমন্ত্রী জানান।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (আরবিআই) নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স ন্যূনতম সীমার নিচে নেমে গেলে ব্যাঙ্ককে অবশ্যই গ্রাহককে এসএমএস, ইমেল বা চিঠির মাধ্যমে সতর্ক করতে হবে। গ্রাহককে অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করার জন্য নির্দিষ্ট সময় দিতে হবে এবং সেই সময়সীমা পার হওয়ার পরেই কেবল জরিমানা আরোপ করা যাবে।