স্বামী ভিন রাজ্যে থাকলে করাতে হবে সতীত্ব পরীক্ষা! নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতার কুরুচিকর মন্তব্যে তোলপাড় বাংলা

নন্দীগ্রামের মহিলাদের নিয়ে বিজেপি নেতার অত্যন্ত কুরুচিকর ও আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়া বধূদের সতীত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি তাঁদের ‘গাইনোকোলজিক্যাল টেস্ট’ বা স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত পরীক্ষার নিদান দিয়েছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতা প্রলয় পাল। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
তৃণমূল ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বিজেপিকে ‘নারী বিদ্বেষী’ বলে কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, একদিকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ স্লোগান দেয়, অন্যদিকে তাদের নেতারাই বাংলার মা-বোনদের চরিত্র নিয়ে জনসমক্ষে কুরুচিকর মন্তব্য করছেন। প্রলয় পালের একটি ভিডিওর প্রসঙ্গ টেনে জানানো হয়, যে সমস্ত মহিলাদের স্বামীরা কাজের সূত্রে ভিন রাজ্যে থাকেন, তাঁদের সতীত্ব প্রমাণ করতে গাইনোকোলজিক্যাল টেস্ট করানোর নিদান দিয়েছেন ওই বিজেপি নেতা। মূলত দিঘার জগন্নাথ ধামে যাওয়া মহিলাদেরই লক্ষ্য করে এই বিতর্কিত মন্তব্য করা হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বাংলার মানুষ এই মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে। মহিলারা কারও সম্পত্তি নন যে তাঁদের সতীত্বের পরীক্ষা দিতে হবে। শাসকদলের দাবি, বাংলার মহিলারাই রাজ্যের মেরুদণ্ড এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনে তাঁরাই বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করবেন। অরূপ চক্রবর্তী কটাক্ষ করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্লোগান হওয়া উচিত, “বেটি বাঁচাও বিজেপি নেতা সে!”