হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিষেধাজ্ঞা, বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা
ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের আবহে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর পাল্টাপাল্টি হামলায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস এই প্রণালী দিয়ে তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বিশেষ করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের মিত্র দেশগুলোর জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হলেও রাশিয়া ও চিনের জন্য শিথিলতার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-ষষ্ঠাংশ এবং এলএনজি সরবরাহের এক-তৃতীয়াংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের প্রভাবে গত জানুয়ারির তুলনায় মার্চে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, নির্দেশ অমান্য করে কোনো তেলের ট্যাঙ্কার প্রবেশ করলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের বাজারেও। দেশে রান্নার গ্যাসের দাম এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহে টান পড়ায় হোটেল-রেস্তোরাঁ শিল্প ক্ষতির মুখে। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে আমেরিকা ভারতকে আগামী ৩০ দিন রাশিয়া থেকে তেল আমদানির অনুমতি দিয়েছে। কেবল জ্বালানি নয়, এই পথ বন্ধ হওয়ায় সার, পেট্রোকেমিক্যাল ও শিল্পজাত পণ্য পরিবহণেও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।