দিল্লি হাইকোর্টের ক্যান্টিনেও বিরিয়ানি উধাও রান্নার গ্যাসের হাহাকারে মাথায় হাত আইনজীবীদের

দিল্লি হাইকোর্টের ক্যান্টিনেও বিরিয়ানি উধাও রান্নার গ্যাসের হাহাকারে মাথায় হাত আইনজীবীদের

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল দেশের বিচারব্যবস্থার অন্দরে। প্রবল এলপিজি সংকটের জেরে দিল্লি হাইকোর্টের আইনজীবীদের ক্যান্টিনেও খাদ্যাভ্যাসে বড়সড় কোপ পড়েছে। বুধবার দুপুরে ক্যান্টিনে গিয়ে কার্যত হতাশ হতে হয়েছে দুঁদে আইনজীবীদের। রান্নার গ্যাস না থাকায় মেনু থেকে বাদ পড়েছে বিরিয়ানি, ডাল মাখানি এবং শাহি পনিরের মতো জনপ্রিয় সব মেইন কোর্সের পদ।

আদালতের ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষ একটি জরুরি নোটিশ দিয়ে জানিয়েছেন যে, বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকটের কারণে বর্তমানে কোনো ভারী খাবার রান্না করা বা পরিবেশন করা সম্ভব হচ্ছে না। যতদিন না এই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে, ততদিন মেনুতে কেবল স্যান্ডউইচ, স্যালাড এবং ফ্রুট চাট— যা তৈরি করতে আগুনের প্রয়োজন হয় না, সেই সব হালকা খাবারই মিলবে।

এই সংকটের মূলে রয়েছে পারস্য উপসাগরের রণাবস্থা এবং হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানি পরিবহনে বাধা। ভারত তার প্রয়োজনীয় রান্নার গ্যাসের প্রায় ৬০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে, যার সিংহভাগই আসে এই পথ দিয়ে। বর্তমানে সরকার ঘরোয়া গ্যাসের সরবরাহ বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের জোগানে টান পড়েছে।

শুধুমাত্র দিল্লি নয়, এলপিজি সংকটের প্রভাবে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বইয়ের অবস্থা আরও শোচনীয়। সেখানকার প্রায় ২০ শতাংশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বেঙ্গালুরু এবং চেন্নাইয়ের বহু নামী রেস্তোরাঁও তাদের চুল্লি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোথাও সিলিন্ডার বাঁচাতে তাওভার সংখ্যা কমানো হয়েছে, আবার কোথাও দোকানের কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। দিল্লির বাজারে ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে ৯১৩ টাকা হয়েছে এবং বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ১১৪.৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে দেশের খাদ্য পরিষেবা শিল্প এক গভীর সংকটের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *