জাতীয় সংগীতে নীরবতা পালনের জেরে দেশে ফিরলেই প্রাণদণ্ডের ভয় দেখছে ইরানের সাত মহিলা ফুটবলার

জাতীয় সংগীতে নীরবতা পালনের জেরে দেশে ফিরলেই প্রাণদণ্ডের ভয় দেখছে ইরানের সাত মহিলা ফুটবলার

ইরানের টালমাটাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল অস্ট্রেলিয়া। জাতীয় দলের সাত মহিলা ফুটবলারকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে দেশের সরকার। হিজাব বিরোধী আন্দোলন এবং খামেনেই শাসনের বিরোধিতায় সরব হওয়া এই ফুটবলাররা দেশে ফিরলে চরম বিপদের আশঙ্কা করছিলেন। এই আবহে তাঁদের মানবিক ভিসা দিয়ে পাশে দাঁড়াল ক্যানবেরা।

অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপ খেলতে গিয়েই বিপত্তি বাঁধে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে ইরানের জাতীয় সংগীতের সঙ্গে গলা মেলাননি দলের ফুটবলাররা। বারুদ আর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আবহে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাঁদের এই নীরব প্রতিবাদকে ভালো চোখে দেখেনি তেহরান। ইরানের জাতীয় টেলিভিশনে তাঁদের রীতিমতো ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ তকমা দেওয়া হয়। এর পরেই প্রাণভয়ে দেশে ফিরতে অস্বীকার করেন দলের বেশ কয়েকজন সদস্য।

এই পরিস্থিতিতে ইরানের মহিলা ফুটবল দলের সাত সদস্য অস্ট্রেলিয়ার কাছে আশ্রয়ের আবেদন জানিয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানিয়েছেন, বুধবার আরও দু’জন সদস্যকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এর আগে পাঁচজনকে একই সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে সাতজন ইরানি ফুটবলার আপাতত অস্ট্রেলিয়াতেই থাকছেন। বার্কের মতে, এই ফুটবলারদের সাহস এবং সংকল্প বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে, তাই তাঁদের জন্য স্থায়ী ভিসার পথ প্রশস্ত করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওং জানিয়েছেন, তাঁর দেশ সবসময় ইরানের সাধারণ মানুষের অধিকারের পাশে রয়েছে। যদিও দলের বাকি সদস্যরা পরিবারের টানে ইতিমধ্যে ইরানের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। বর্তমানে তাঁরা কুয়ালা লামপুরে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, যুদ্ধের প্রভাবে ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ডও ফিফার কাছে বিশ্বকাপের কোয়ালিফায়ার ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতার কালো ছায়া এখন বিশ্ব ফুটবলের আঙিনায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *