সুপ্রিম কোর্টের রায়ে হরিশ রানার সম্মানজনক মৃত্যুর পথ প্রশস্ত, শুরু হচ্ছে প্যালিয়েটিভ কেয়ার

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে হরিশ রানার সম্মানজনক মৃত্যুর পথ প্রশস্ত, শুরু হচ্ছে প্যালিয়েটিভ কেয়ার

দীর্ঘ ১৩ বছর অচেতন অবস্থায় কাটানোর পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে হরিশ রানার কৃত্রিম জীবন রক্ষার প্রক্রিয়া বন্ধ হতে চলেছে। বিচারপতি জেবি পার্দিওয়ালা ও বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ ‘প্যাসিভ ইউথানেশিয়া’ বা পরোক্ষ ইচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিয়ে জানিয়েছে, সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাহীন রোগীর জীবন কৃত্রিমভাবে দীর্ঘায়িত না করে প্রকৃতিকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দেওয়া যুক্তিসঙ্গত। এই রায়ের ফলে হরিশের শরীর থেকে ধীরে ধীরে লাইফ সাপোর্ট ও ফিডিং টিউব সরিয়ে নেওয়া হবে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, হরিশকে দিল্লির এইমস-এর প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হবে। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করবেন, যার মূল লক্ষ্য হবে রোগীকে যন্ত্রণামুক্ত রাখা। এই প্রক্রিয়ায় কোনো প্রাণঘাতী ইনজেকশন বা সরাসরি পদক্ষেপ (অ্যাকটিভ ইউথানেশিয়া) নেওয়া হবে না। বরং অ্যান্টিবায়োটিক বা পেইনকিলারের মাধ্যমে কেবল তাঁর শারীরিক অস্বস্তি কমানোর চেষ্টা করা হবে, যাতে শেষ সময়টুকু মর্যাদার সঙ্গে অতিবাহিত হয়।

ভারতে মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকারকে (Right to Die with Dignity) স্বীকৃতি দিয়ে আদালত এই সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রাথমিক ও সেকেন্ডারি মেডিকেল বোর্ডের পর্যালোচনার পর ধাপে ধাপে চিকিৎসা যন্ত্রসমূহ সরিয়ে নেওয়া হবে। ২০১৩ সাল থেকে ‘ভেজিটেটিভ স্টেট’-এ থাকা হরিশের পরিবারের দীর্ঘ লড়াইকে সম্মান জানিয়ে আদালত স্পষ্ট করেছে যে, যখন চিকিৎসা আর কোনো উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে না, তখন রোগীর স্বস্তিই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *